জলপাইগুড়ি – জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে শুক্রবার দেখা গেল এক বিরল রাজনৈতিক ছবি। দীর্ঘদিনের শত্রুতা যেন মিলিয়ে গেল পেটের লড়াই আর ক্ষোভের চাপে। রাজ্যের নতুন টোটো রেজিস্ট্রেশন নীতির বিরুদ্ধে সিটুর ডাকা মিছিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র নেতা-কর্মীরাও। এতে চরম অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে শাসকদলের জেলা নেতৃত্বকে।
দুপুরের পর থেকেই রাজগঞ্জ বিডিও অফিস চত্বরে জমতে থাকেন টোটো ও ই-রিকশা চালকেরা। সিটুর ই-রিকশা ইউনিয়নের নেতৃত্বে শুরু হয় স্লোগান, তারপর ক্ষোভ। প্রশ্ন ওঠে—নতুন রেজিস্ট্রেশন নীতি কেন? কেন বাড়ানো হল ফি? কেন জটিল TTEN পোর্টালের নিয়ম মানতে হবে? ক্ষোভ বাড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অফিসে ঢোকার অনুমতি না পেয়ে চালকরা রাস্তায় বসে পড়েন। পথ অবরোধে থমকে যায় যান চলাচল ও সরকারি কাজকর্ম।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন হলেও রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়ে। সিটুর পতাকার পাশে তৃণমূলের আইএনটিটিইউসি কর্মীদের উপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে আলোড়ন তোলে। তাঁদের বক্তব্য—টোটো চালকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হলে তারা কাউকে ছাড় দেবেন না, যিনি চালকদের স্বার্থে কথা বলবেন তাঁর সঙ্গেই থাকবেন। তাঁদের মতে, এটি রাজনীতি নয়, মানুষের পেটের লড়াই।
এই অবস্থান শাসকদলের নেতৃত্বকে স্পষ্টভাবেই অস্বস্তিতে ফেলেছে। দলবিরোধী মিছিলে যোগ দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তবে মুখ খুলতে নারাজ তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব।
এদিন টোটো চালকেরা ছ’টি মূল দাবি জমা দেন জয়েন্ট বিডিও-র কাছে। সরকারি স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা, টোটো ও ই-রিকশার মধ্যে ভেদাভেদ দূরীকরণ, ৩০০ টাকায় এককালীন রেজিস্ট্রেশন, শোরুম রেজিস্ট্রেশন বাতিল, রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বৃদ্ধি ও ভর্তুকিযুক্ত ঋণের দাবি উঠে আসে।
টোটো চালকদের ক্ষোভ নতুন নয়। তবে সিটুর ডাকে তৃণমূল কর্মীদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ—রাজনীতি যে অনেক সময় পেটের টানে হার মানে, তারই তাজা উদাহরণ দেখা গেল রাজগঞ্জে।




















