‘উনি তো অমর’—জুবিন গর্গকে ভোটার তালিকায় রেখেই ভালবাসার নজির অসমবাসীর

‘উনি তো অমর’—জুবিন গর্গকে ভোটার তালিকায় রেখেই ভালবাসার নজির অসমবাসীর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিনোদন – জুবিন গর্গ আর নেই—এই কঠিন সত্য মানতে এখনও পারেননি অসমবাসী। রাজ্যের নানা প্রান্তে এখনও আচমকা বেজে ওঠে তাঁর গান, আর সেই সুরেই ভক্তরা কাটিয়ে দিচ্ছেন দিন। তাঁর প্রতি এই অগাধ ভালবাসার আরেকটি নজির মিলল ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায়। নিয়ম অনুযায়ী মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও, বিখ্যাত এই শিল্পীর ক্ষেত্রে তা মানতে নারাজ হলেন কার্যরত বুথ লেভেল অফিসাররা। তাঁদের কথায়, “উনি তো অমর!”—এই বার্তাই ভেসে উঠল সরকারি খাতায়।

বিশেষ পুনর্বিবেচনার সময়ে মৃত ব্যক্তির নাম যাচাই করে বাদ দেওয়ার দায়িত্ব থাকে বুথ লেভেল অফিসারদের। পরিবারের পক্ষ থেকে ফর্ম ৭ জমা না পড়লে নিজে থেকে কোনও নাম কাটা যায় না—এমনই নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন মহম্মদ তাফিজ উদ্দিন, যিনি দায়িত্বে ছিলেন সেই বুথের, যেখানে জুবিন গর্গ ভোট দিতেন। তালিকা যাচাই করতে করতে যখন তিনি শিল্পীর নামের সামনে পৌঁছন, আবেগে মন ভিজে ওঠে তাঁর। নিয়মের গণ্ডি পেরিয়ে তালিকায় জুবিনের ছবির পাশে তিনি লিখে দেন—“তুমি অমর হয়ে থাকো এবং শান্তিতে ঘুমাও।” পরিবারের সদস্যরা এই মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অসমজুড়ে, আর ভক্তদের আবেগ আরও উথলে ওঠে।

অসমবাসীর কাছে জুবিন শুধু এক সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন না—তিনি ছিলেন তাঁদের গলার স্বর, তাঁদের আত্মার সুর। সেই কারণেই তাঁকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করার দায়ভার নিতে পারেননি তাফিজ উদ্দিন। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, জুবিনের নাম কাটার কথা ভাবতেই গলা বুজে আসছিল তাঁর।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করার সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় মাত্র ৫২ বছরের জনপ্রিয় এই শিল্পীর। নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে ইয়ট ভ্রমণের সময় সমুদ্রে নামার পরেই ঘটে দুর্ঘটনা। এরপর রাজ্যজুড়ে ৬০টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনাটি তদন্তে রাজ্য সরকার গঠন করে বিশেষ তদন্ত দল এবং পাশাপাশি একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিশনও তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।

ঘটনার পর গ্রেফতার করা হয় ফেস্টিভ্যাল আয়োজক শ্যামকানু মহান্ত, শিল্পীর ম্যানেজার সিধার্থ শর্মা, ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী, অমৃত প্রভা মহন্তকে। গ্রেফতার হন শিল্পীর আত্মীয় ও অসম পুলিশের অফিসার সন্দীপন গার্গও। পরে আটক করা হয় জুবিনের দুই নিরাপত্তা রক্ষী নন্দেশ্বর বরা এবং প্রবীণ বৈশ্যকে।

অসমবাসীর মনে জুবিন আজও বেঁচে আছেন। সরকারি খাতা থেকেও তাঁকে মুছে দিতে মন মানছে না—এই মানবিক দৃশ্যই প্রমাণ করে, জুবিন গর্গ সত্যিই অমর।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top