শহরে ফের বেপরোয়া গতির বলি একের পর এক নিরীহ মানুষ

শহরে ফের বেপরোয়া গতির বলি একের পর এক নিরীহ মানুষ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



উত্তর 24 পরগণা – ঠাকুরপুকুর থানার অন্তর্গত কদমতলা এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ফের কেঁপে উঠল শহর। বুধবার সকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেপরোয়া গতিতে এক্সপ্রেস বাস সজোরে ধাক্কা মারে দুটি বাইক ও একটি চারচাকায়। বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন দুই বাইক আরোহী। তাঁদের মধ্যে একজনের পায়ের ওপর দিয়েই গড়িয়ে যায় বাসের চাকা, ফলে তাঁর একটি পা বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসচালককে আটক করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিন সকালেই মানিকতলার কাছে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বাবার সঙ্গে বাইকে চেপে স্কুলে যাচ্ছিল ১২ বছরের এক ছাত্র। বেঙ্গল কেমিক্যাল মোড়ের কাছে বেপরোয়া গতিতে পিছন থেকে ছুটে এসে একটি লরি বাইকটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রচণ্ড ধাক্কায় বাবা-ছেলে দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এরপরই লরিটি এগিয়ে গিয়ে ছাত্রটিকে পিষে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, আহত ছাত্রটি বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল স্কুলের ছাত্র এবং প্রতিদিনের মতোই সে বাবার সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল।

শহরের রাস্তায় বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। মঙ্গলবার বিকেলেই শ্যামবাজার এভি স্কুলের সামনে রেষারেষিতে লিপ্ত দুটি বাসের বেপরোয়া গতির জেরে প্রাণ হারান ৭২ বছরের অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক শম্ভনাথ দাস। রাস্তা পার হতে গিয়ে বাসের প্রতিযোগিতার মাঝখানে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

এর আগেও কাশীপুরে বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল ১৫ বছরের স্কুলছাত্র অরণ্য চক্রবর্তীর। সাইকেলে চেপে স্কুলে যাওয়ার সময় পিছন থেকে বেসরকারি বাস এসে সজোরে ধাক্কা মারে তাকে। রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ক্রমাগত বেপরোয়া গতি, রেষারেষি এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার অভাবে শহরের রাস্তায় বাড়ছে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, আর তার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ—স্কুলপড়ুয়া থেকে প্রবীণ, কেউই রেহাই পাচ্ছেন না।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top