মালদা – মালদহ ও মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় সমস্যা গঙ্গা ভাঙন। জমি, ঘরবাড়ি, চাষের ক্ষেত—সব কিছু নদীগর্ভে হারিয়ে বহু পরিবার বছরের পর বছর বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। এই জ্বলন্ত ইস্যুতেই মালদহের গাজোলের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গঙ্গা ভাঙন রোধে কেন্দ্র কোনও স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করেনি, বরং রাজ্য সরকারের বারবার আবেদন সত্ত্বেও ফরাক্কায় ড্রেজিংয়ের মতো জরুরি কাজও করা হচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভাঙন রোধে রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। মালদহের ভুতনি, রতুয়া, গাজোল, ইংরেজবাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জমি প্রতি বছর বর্ষার মরসুমে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ছেন, বহু পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ছে প্রকৃতির এই নির্মম গ্রাসে। তবুও কেন্দ্রীয় সরকার ভাঙন প্রতিরোধে কোনও স্থায়ী প্রকল্প নেয়নি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গাজোলের সভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, “গঙ্গা আমাদের হাতে নেই। ভাঙন রোধ কেন্দ্রের হাতে।” তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের ভাঙন প্রতিরোধে কোনও অপরিহার্য পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। ফরাক্কা ব্যারাজে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমায় নাব্যতা কমে যাচ্ছে—এ নিয়ে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও কেন্দ্র কোনও সাড়া দেয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এদিন সভামঞ্চ থেকেই ফের সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্র ড্রেজিং না করায় সমস্যাটি প্রতি বছর আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সবসময় রাজ্য সরকার রয়েছে এবং থাকবে। গাজোলের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আবারও আশ্বাস দেন, ভাঙন-দুর্গতদের পুনর্বাসন ও সহায়তায় রাজ্য তাদের সর্বতোভাবে পাশে দাঁড়াবে।




















