পূর্ব মেদিনীপুর – বেলডাঙায় শিলান্যাস হতে চলা বাবরি মসজিদের নেপথ্যে ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের হাত আছে কি না, তা নিয়েই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নিজেকে অনড় রেখে হুমায়ুন বলেছেন, বাবরি নিয়ে তাঁর অবস্থান দলের ‘হাজার আপত্তি’ সত্ত্বেও অপরিবর্তিত। তবে এই দাবির কারণে তাঁকে দলের পক্ষ থেকে নিলম্বিত করা হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “তৃণমূল সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য উস্কানি দিচ্ছেন কিনা বা তাঁর নেপথ্যে রয়েছেন কিনা, তা জানা দরকার। তিনি আগেই বলেছিলেন, দলের নির্দেশে উগ্র মৌলবাদী রাজনীতি করেছেন।” হুমায়ুন বহুবার নতুন দল গঠনের হুঙ্কার তোলেন এবং ডিসেম্বরেই সেই বিষয়ে ‘পাকা সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন, বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আনার জন্য তাঁদের উপর ভরসা নেই। বরং জাতীয়তাবাদী, বিকাশবাদী, সুশাসন, সুরক্ষা, পেটে ভাত, হাতে কাজ, মাথায় ছাদ, নারীর সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই তৎপরতা। তিনি উল্লেখ করেছেন, একুশটি রাজ্যে বিজেপি সরকার আছে এবং বিহারেও দল বিপুল জয় পেয়েছে; পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষমতায় আসার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই তৃণমূল দল ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করেছে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদে সভা করছিলেন। মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে, তাঁদের সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক থাকবে না।” অর্থাৎ ধর্মীয় ইস্যুর কারণে হুমায়ুনের অবস্থান দলের সঙ্গে অমিল হয়ে বিদ্ধ হয়েছে। তবে হুমায়ুন নিজে জানিয়েছেন, এই নিলম্বনের ফলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব বা মনোভাবের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।




















