কলকাতা – আর জি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি তদন্তে নতুন বিস্ফোরণ। সিবিআই চার্জশিটে জানিয়েছে, অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসা ও ঋণের টাকা শোধের অজুহাতে একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা তোলেন প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। সেই সব টাকাই তিনি স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ, কাশ্মীরি বেগম নামে যে মহিলার অ্যাকাউন্টে কয়েক দফায় টাকা গেছে, তিনিই আসলে আখতারের স্ত্রী।
তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ থাকা সত্ত্বেও সম্পর্কের অবনতি ঘটতেই হঠাৎই সন্দীপ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে শুরু করেন আখতার আলি। সিবিআইয়ের দাবি— সংঘর্ষ শুরু হতেই আখতার নিজের অবস্থান বদলে অভিযোগকারীর ভূমিকায় চলে যান। অথচ চার্জশিটে বলা হয়েছে, সন্দীপ ঘোষ ও ভেন্ডরদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে দুর্নীতিতে আখতার নিজেই সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ইতিমধ্যেই সন্দীপ ঘোষ সহ তাঁর চার ঘনিষ্ঠকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুযায়ী, সন্দীপ ঘোষ আর জি করের অধ্যক্ষ হয়ে যোগ দেওয়ার বহু আগেই, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই, আখতার আলি বিভিন্ন ভেন্ডরের সঙ্গে যোগসাজশ করে টাকা তুলতে শুরু করেছিলেন। এক বেসরকারি সংস্থার কর্তার কাছ থেকে জোর করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি— যা সরাসরি তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সন্দীপ যোগ দেওয়ার আগেই আখতার দুর্নীতির অন্যতম প্রধান চরিত্র ছিলেন।
একই চার্জশিটে উল্লেখ, ২০২০ সাল থেকেই ই-টেন্ডারের মাধ্যমে আর জি কলে সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি সংস্থাকে আখতার মোট ৪ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার বরাত দেন। সেই সংস্থার কর্তার দাবি— আখতারের জন্যই তাঁর পাওনাদি মসৃণভাবে মিটত। সেই সুবিধার বদলে অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসার নাম করে আখতার ওই ব্যবসায়ীর কাছে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা দাবি করেন। কয়েক দফায় ওই পুরো টাকা জমা পড়ে আখতারের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে। টাকা ফেরত দেননি আখতার।
এছাড়া আরেক ব্যবসায়ী আখতারের পরিবারের ভ্রমণের জন্য ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা খরচ করেন, যার বদলে তাঁর সংস্থার নামে ভুয়ো কোটেশন তৈরি করা হয়। এই জালিয়াতিতেও দুই ভেন্ডর— বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরার নাম রয়েছে সিবিআইয়ের চার্জশিটে।




















