দেশ – বৃহস্পতিবার সন্ধেয় দিল্লিতে পা রাখতেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রোটোকল ভেঙে ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে গিয়ে অতিথিকে স্বাগত জানান তিনি। পরে লোক কল্যাণ মার্গে বৈঠকের সময় মোদী তাঁর ‘বন্ধু’ পুতিনকে উপহার দেন রুশ ভাষায় প্রকাশিত শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা—যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিশেষ আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি শেয়ার করে মোদী লেখেন, গীতা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রেরণা দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দুই নেতার বৈঠকের পরিবেশ ছিল প্রতীকী—ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বিশেষ আলোকসজ্জা ও দুই দেশের পতাকা দিয়ে সজ্জিত ছিল পুরো এলাকা। বৈঠকের আগে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মোদী উল্লেখ করেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। বহু দশকের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক দুই দেশের মানুষের উপকারে এসেছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার থেকে পুতিনের সরকারি কর্মসূচি শুরু হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন—ভারত সফরে থাকা যে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য যা এখন প্রায় বাধ্যতামূলক ধাপ। পরে হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক। সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত রয়েছে কাজের মধ্যাহ্নভোজ। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, ভূ-কৌশল—সব ক্ষেত্রেই একাধিক গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সফরের মাঝেই ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন জানান, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বা চাপ কোনওভাবেই ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে নড়বড়ে করতে পারেনি। শুল্কনীতি, রুশ তেল কেনা নিয়ে চাপ—এসবের পেছনে ভারতের বাড়তে থাকা প্রভাবকেই দায়ী করেন তিনি। তাঁর কথায়, পশ্চিমা দেশগুলি যে মূল্যসীমা আরোপ বা নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কার নিয়ে দেশগুলিকে সতর্ক করছে, তা বাজারের বাস্তবতা নয়—রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। এই ধরনের চাপ আসলে কূটনীতিকে হাতিয়ার করে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা মাত্র বলেই মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সম্পর্ক নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই সম্পর্ক এমন ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে যা কোনো রাজনৈতিক ওঠানামা বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ইউক্রেনের মর্মান্তিক পরিস্থিতি কিংবা পশ্চিমা কূটনৈতিক চাপ—কোনো কিছুই দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতাকে টলাতে পারবে না বলেই দাবি পুতিনের।




















