বীরভূম – কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশেই বীরভূমের বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা পেল ‘অনন্তশ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল চেয়ার’। রাজ্যে কোনও ধর্মগুরুর নামে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চেয়ার স্থাপন এই প্রথম বলেই একে বিরল ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বধর্ম সমন্বয়ের বাণী নিয়ে গ্রামেগঞ্জে হেঁটে সাধারণ মানুষের মধ্যে জাত-পাতের বিভেদ মুছে দেওয়ার কাজ করেছিলেন সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ। তাঁর সেই দর্শন ও আদর্শকে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, এবং তা রক্ষা করলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে নতুন চেয়ারের উদ্বোধন হয়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ডানলপের কাছে সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ আশ্রমের মহামিলন মঠে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে মঠের আচার্য কিঙ্কর বিঠঠল রামানুজ মহারাজ ও মিশনের সভাপতি কিংকর প্রিয়নাথকে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, নবীন প্রজন্মের কাছে ওঙ্কারনাথ দেবের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে সরকার সবরকম সহায়তা করবে। সেই প্রতিশ্রুতির ফল হিসেবেই চেয়ারের প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হল।
এই দিনই বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওঙ্কারনাথ মিশন রিসার্চ সেন্টার ফর ইন্দোলজিকাল স্টাডিজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথভাবে বক্তৃতা, ওয়ার্কশপ, গবেষণা ও একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সংস্কৃত, দর্শন, ইতিহাস, ধর্ম ও সাহিত্যসহ ভারতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিস্তারের ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা বড় দিগন্ত খুলে দেবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিলীপ কুমার মাইতি, ওঙ্কারনাথ মিশনের সভাপতি কিংকর প্রিয়নাথ চট্টোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী ড. এল. শংকর এবং সন্তুরবাদক তরুণ ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকে।
ওঙ্কারনাথ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা কিংকর রামানুজ মহারাজ জানান, এই মউ দুই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগকে সমৃদ্ধ করবে এবং পড়ুয়াদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একটি সাম্মানিক চেয়ারও অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গবেষণা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময় আরও প্রসারিত হবে। তার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিলীপ কুমার মাইতি বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তি ভারতীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য প্রচারে বড় ভূমিকা নেবে। সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ দেবের নামে আন্তর্জাতিক চেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে গৌরবময় করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে যাবে।




















