কলকাতা – ট্যাংরার চিত্তনিবাস, চারতলার সেই বাড়ি যেখানে একসময় মানুষের চলাচল, হইহুল্লোড়, পুজো-আর্চা সবই চলত, এখন সম্পূর্ণ নীরব। দশ মাস আগে পর্যন্ত গমগম করত বাড়িটি, কিন্তু আজ তা খাঁ খাঁ করে ফাঁকা। বাড়ির জানালার কালো কাচে ধুলোর আস্তরণ, দরজার ফাঁকে জমেছে বিদ্যুতের বিল ও ঋণের নোটিস, কিন্তু কোনো প্রভাবশালী নেই।
চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ট্যাংরাতে পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা গোটা কলকাতাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। একই দিনে বাইপাসে দুর্ঘটনায় আহত হন পরিবারের আরও তিন সদস্য, যার মধ্যে ছিলেন বড় ছেলে প্রসূণ দে, ছোট ছেলে প্রণয় দে এবং নাবালক সন্তান। এই ঘটনায় দুই ছেলে গ্রেফতার হন, নাবালক কিশোরটি হোম থেকে বাবা-মার কাছে ফিরে আসে।
প্রসঙ্গত, বাড়ির বড়ছেলে প্রণয় দে-র স্ত্রী সুদেষ্ণা দে, ছোটছেলে প্রসূন দে-র স্ত্রী রোমি দে ও তাঁদের কন্যা খুন করা হয়েছিল। দুই স্ত্রীর গলা ও হাতের শিরা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল, নাবালিকাকে খুন করা হয়েছিল খাবারে বিষ মিশিয়ে এবং শরীরে আঘাতও ছিল।
এখন চিত্তনিবাসের অবস্থা চেনাই যাচ্ছে না। বাইরে লাগানো তালায় জং ধরে গেছে, পালিশ করা কাঠের দরজায় ঝুলছে নোটিস, ইলেকট্রিক লাইনও কেটে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে সময়ের সঙ্গে পুলিশ ও সাংবাদিকদের ভিড় ফিকে হয়ে গেছে, আর স্থানীয়রাও এখন আর বাড়ির দিকে তাকান না। নীরবতা, শোক ও আতঙ্কের আবহে দাঁড়িয়ে আছে ট্যাংরার চিত্তনিবাস।




















