ত্রিপুরা – জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা সত্ত্বেও বিভিন্ন ঘটনার আবহে আবারও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। পহেলগাঁও হামলার পর যখন গোটা দেশ সতর্ক, তখনই লালকেল্লার অদূরে বিস্ফোরণ ঘটে দিল্লিতে। এবার মণিপুরে পরপর গ্রেফতার হল মোট দশ জঙ্গি, যা সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারির ঘাটতির অভিযোগকে আরও তীব্র করেছে।
জানা গেছে, জোর করে টাকা তোলার অভিযোগে মণিপুরের থৌবাল, কাকচিং এবং ইম্ফল পশ্চিম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনী নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ইম্ফল পশ্চিমের মিনুথং এলাকা থেকে ধরা পড়েছে নিষিদ্ধ ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (কোইরেং)-এর ক্যাডার হিজাম মারজিৎ সিং (৫১), যে ইম্ফল-দিমাপুর রুটে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা তুলছিল। একই দিনে থৌবাল জেলার লাইফ্রাকপাম মামাং থেকে সংগঠনের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া থৌবালের ইয়ারিপোক ওয়াংখেম এলাকা থেকে কেসিপি সংগঠনের দুই ক্যাডার—কনসাম আনাও সিং (২৬) এবং খোইরোম লাঙ্গাম্বা মেইতেই (২৭)—কে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি এসএমজি কার্বাইন এবং দুটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে।
কাকচিং জেলার সেকমাইজিন খোইদুম এলাকা থেকেও কেসিপি (এমএফএল)-এর দুই সক্রিয় ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া তেরা উরাক চেকপয়েন্ট থেকে প্রেপাক সংগঠনের একজন সদস্য এবং ইম্ফল পশ্চিমের নাগামাপাল কাংজাবি লেইরাক থেকে প্রেপাক (পিআরও)-এর আরেক ক্যাডারকে ধরা হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্যেই দেশে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া, যা বাংলা সহ ১২টি রাজ্যে চালু হয়েছে অনুপ্রবেশ রুখতে। কিন্তু তৃণমূল সহ বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্র অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেই এসআইআর করছে, অথচ মণিপুর, ত্রিপুরা, মিজোরাম—এই সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে তা হয়নি, যেখানে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পথ আরও সহজ। মণিপুরে ১০ জঙ্গির গ্রেফতার বিরোধীদের সেই অভিযোগকে ফের একবার সামনে এনে দিল।




















