দিল্লি -২০১৬ সালের শিক্ষাকর্মী নিয়োগ মামলায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল। হাই কোর্টের নির্দেশ মানতে রাজি নয় স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি), আর তাই বহু বছরের পুরনো এই বিতর্ক ফের চরমে উঠেছে। গত সপ্তাহে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি-—উভয় বিভাগের যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কমিশন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে চলে গেল। ফলে মামলার জট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে—কেন যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে চাইছে না কমিশন? এসএসসি-র দাবি, এই পর্যায়ে তালিকা প্রকাশ করলে চলমান পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। হাই কোর্টের নির্দেশ মানতে না চাওয়া নিয়োগপ্রার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ না হলে সম্পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে না, বরং বিভ্রান্তি আরও গভীর হবে। বহু প্রার্থী অভিযোগ করছেন যে সাত বছর ধরে সত্যের সন্ধানে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছেন, অথচ কমিশন বারবার তালিকা প্রকাশে দেরি করছে।
গত ১ ডিসেম্বর বিচারপতি অমৃতা সিংহ নির্দেশ দেন, ২০১৬-র নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত অযোগ্য প্রার্থীদের নাম, ঠিকানা ও ডকুমেন্টসহ বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও, গ্রুপ-সি ও ডি যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের ৩ ডিসেম্বরের নির্দেশ কমিশন মানতে চায়নি। আইনজীবীরা আরও জানাচ্ছেন, এসএসসি হাই কোর্টের আরেকটি নির্দেশ—যেখানে যোগ্য প্রার্থীদের বয়সে ছাড় দিয়ে নতুন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে—সুপ্রিম কোর্টে সেটিও চ্যালেঞ্জ করেছে। আগামী ৬ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হাই কোর্টে হওয়ার কথা, তার আগেই কমিশনের শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হওয়া নতুন আইনি মোড়ের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলা এই নিয়োগ মামলা ইতিমধ্যেই শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক চাপ, আদালতের একের পর এক নির্দেশ এবং কমিশনের অবস্থান—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। মামলাটি চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
এখন নজর থাকবে শীর্ষ আদালতের ওপর—সুপ্রিম কোর্ট কি হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রাখবে, নাকি কমিশনের যুক্তি বিবেচনায় নতুন কোনও নির্দেশ দেবে। তবে যাই হোক, গ্রুপ-সি ও ডি যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন করে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়াচ্ছে।




















