বাংলায় ‘আন-কালেক্টেবল’ ফর্ম ৫৫ লক্ষ ছাড়াল, উদ্বেগে নির্বাচন কমিশন

বাংলায় ‘আন-কালেক্টেবল’ ফর্ম ৫৫ লক্ষ ছাড়াল, উদ্বেগে নির্বাচন কমিশন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত ডিজিটাইজেশন আপডেট অনুযায়ী, রবিবার সন্ধে পর্যন্ত বাংলায় ‘আন-কালেক্টেবল’ ফর্ম-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লক্ষ ৮৬ হাজার ৭৭৩। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে জোরদারভাবে। কমিশনের পরিসংখ্যানে পরিষ্কার—অসঙ্গতির পরিমাণ আগের অনুমানকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।

কমিশন জানাচ্ছে, মোট এনুমারেশন ফর্মের প্রায় ৯০ শতাংশ ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ। তার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, মৃত ভোটারের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৬৫-এ পৌঁছেছে। স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা ১৯ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৪৭, নিখোঁজ ভোটার ১০ লক্ষ ৬৯ হাজার ১২৬, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৩০ এবং অন্যান্য ক্যাটেগরিতে পড়ছে ৪৭ হাজার ১০৫ জন। সব মিলিয়ে যে বিশাল সংখ্যাটি উঠে আসছে, সেটাই ‘আন-কালেক্টেবল’ ফর্ম হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কমিশনের ভাষায়, এরা সেইসব ভোটার যাঁরা মৃত, পাওয়া যায়নি বা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। অনেকের ক্ষেত্রে আবার দেখা যাচ্ছে দু’জায়গায় নাম রয়েছে—তারাও এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বড় হতে পারে, কারণ কয়েকটি জেলা এখনো সঠিকভাবে ডেটা আপলোড করছে না। স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ—অনেক বিএলও তিনবার ভিজিট করার পরও ফর্ম আপলোড করছেন না, এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্তা নাকি তাঁদের বলছেন শেষ মুহূর্তে আপলোড করতে। তাঁর মতে, এই মনোভাব ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করছে।

ডেটা আপলোড দ্রুত শেষ হলে রাজ্যের মৃত ও অনিয়মিত ভোটারদের প্রকৃত পরিসংখ্যান আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলিও নিয়মিত অভিযোগ করছে যে বহু জায়গায় তালিকা সংশোধনে গাফিলতি চলছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রক্রিয়ার মাঝেই কমিশন বাংলার দুইটি শূন্য পদে যৌথ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিয়োগে অনুমতি দিয়েছে। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন আইএএস বন্দনা পোখরিয়াল ও দিব্যা মুরুগেশন। পাশাপাশি ডেপুটি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের প্যানেলও রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট—‘আন-কালেক্টেবল’ ফর্ম-এর সংখ্যা যত দ্রুত বেড়ে চলেছে, কমিশন তত দ্রুত এই তথ্যকে চূড়ান্ত করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার দিকে জোর দিচ্ছে। সামনে লোকসভা ভোট, তাই এই আপডেট এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top