রাজ্য- ‘পাশে থাকা’র সফরে আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছচ্ছেন কোচবিহারে। দুপুরে শহরে এসে বিকেল ৪টে তিনি কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। পরের দিন মঙ্গলবার রাসমেলা মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় রাজনৈতিক সভায় ভাষণ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে মঙ্গলবার সকালে তিনি মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিতে পারেন বলেও প্রশাসনিক সূত্রের খবর। এসআইআর নিয়ে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দূর করতেই তিনি ধারাবাহিকভাবে জেলা-জেলা সফর শুরু করেছেন। বনগাঁয় প্রথম সভা করার পর তিনি গিয়েছেন মালদহ ও মুর্শিদাবাদে। এবার দুই দিনের সফরে যাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে।
সম্প্রতি বন্যা ও ধসের বিপর্যয়ের পরে এক মাসে তিনবার উত্তরবঙ্গ সফর করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাকি ছিল কোচবিহার, তাই এবার তাঁর সফরসূচিতে যুক্ত হয়েছে এই জেলা। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার উন্নয়নমূলক যে সব প্রকল্প বকেয়া রয়েছে, তা দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিতে পারেন তিনি। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলায় কী কাজ হয়েছে এবং কী বাকি রয়েছে, তারও খতিয়ান নেবেন প্রশাসনিক সভায়। অন্যদিকে, বনগাঁ থেকে শুরু করে প্রতিটি রাজনৈতিক সভায় মমতার বক্তব্য—“আমি ভোট চাইতে আসিনি। নির্বাচন এলে ভোটের কথা বলব। আমি এসেছি আপনাদের পাশে থাকতে। আপনারা উদ্বিগ্ন, কারণ তিন বছরের কাজ তিন মাসে করা সম্ভব নয়। যে ভাবে তড়িঘড়ি এসআইআরের কাজ চলছে, তা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। এর ফলেই প্রায় চল্লিশজনের মৃত্যু হয়েছে। আমি সকলকে বলতে চাই, কেউ নিজের জীবন বিপন্ন করবেন না। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না, কাউকে পুশব্যাক করা হবে না। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই নাগরিক।”
তাঁর এই বার্তা শুনতে বনগাঁ থেকে মালদহ—সব জায়গায় মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি যে রাজনৈতিক অঙ্ক কষেছিল, তা ভেস্তে দিতে তৃণমূল সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। সেই কারণেই নিজেই পথে নেমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন তৃণমূল নেত্রী। এবার কোচবিহার থেকেই উত্তরবঙ্গের মানুষকে আশ্বস্ত করার কাজ শুরু করবেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এসআইআরের কাজ শেষ হলে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তাই মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকেই তাঁর ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর এই সফর জেলায়-জেলায় এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত কর্মীদেরও নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ করছে। কোচবিহার সফর শেষে উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর তিনি নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আর এক ‘পাশে থাকা’র সভায় যোগ দেবেন।




















