দেশ – দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে চলতে থাকা অসন্তোষ ও আশঙ্কার মধ্যেই নতুন প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। কোনও নাগরিকের জমা দেওয়া নথি দেখে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় কি না—মঙ্গলবারের শুনানিতে এই মূল প্রশ্নেই নজর দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে। আগামী ১০ ডিসেম্বর শুনানির সম্ভাবনা থাকায় এই বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
এদিন শুনানিতে আইনজীবী সাদন ফরাসাত জানান, এসআইআর পদ্ধতিতে কার্যত প্রতিটি ভারতীয় নাগরিককেই নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে। নথি দেখাতে না পারলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ১৪০ কোটি মানুষের নাগরিকত্ব কি এভাবে যাচাই করা সম্ভব—এই দাবির ভিত্তিতেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে। তিনি সরাসরি জানতে চান, কমিশন কি সংবিধানের সীমা ছাড়িয়ে কাজ করছে? নাগরিকত্ব নির্ধারণ বা যাচাই কি নির্বাচন কমিশনের কাজ? ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মধ্যে আদৌ কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তাও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
এদিকে, আইনজীবী ফরাসাতের বক্তব্য—নাগরিকত্ব যাচাইয়ের দায়ভার কেন্দ্রীয় সরকারের, নির্বাচন কমিশনের নয়। একই মত প্রকাশ করেন আইনজীবী প্রশান্ত সেনও। তাঁর বক্তব্য, কমিশন যে প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন করছে তার সঙ্গে মূল লক্ষ্যের কোনও সংযোগ নেই। আরেক আইনজীবী নিজাম পাশা অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশন যেন সমান্তরাল একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে চাইছে, যা উদ্বেগজনক।
মামলাকারীদের পক্ষে বিভিন্ন আইনজীবীর বক্তব্য শোনে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একাধিক রাজ্যের এসআইআর-সংক্রান্ত মামলা একত্রিত করে শুনানি চলছে। পরবর্তী শুনানি বুধবার, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এসআইআর-এর সাংবিধানিক বৈধতা ও কমিশনের প্রকৃত এক্তিয়ার।




















