বড়দিনের আগেই দার্জিলিং-সিকিমে পর্যটকদের ঢল, তুষারপাতের পূর্বাভাসে বুকিং বেড়েই চলেছে

বড়দিনের আগেই দার্জিলিং-সিকিমে পর্যটকদের ঢল, তুষারপাতের পূর্বাভাসে বুকিং বেড়েই চলেছে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



উত্তরবঙ্গ – বড়দিনের আগেই পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট দার্জিলিং। পাহাড় জুড়ে এখন উপচে পড়া পর্যটকের ভিড়। তুষারপাতের সম্ভাবনার জেরে আগাম বুকিং বেড়ে গিয়েছে হোটেল-রিসর্টে। ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশেরও বেশি হোটেল বুক হয়ে গিয়েছে। বহুদিন পর হাসি ফিরেছে পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে। ধসের কারণে রোহিণী পথ বন্ধ থাকলেও পাহাড়ের বাকি সব রাস্তাই এখন খোলা, ফলে যাতায়াতেও তেমন সমস্যা নেই। একই চিত্র সিকিমেও। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং বাগরাকোট হয়ে ৭১৭(এ) জাতীয় সড়ক খুলে যাওয়ায় প্রবল ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

হঠাৎ এত বুকিং বাড়ার মূল কারণ আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের গ্যাংটকের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, বড়দিনে দার্জিলিং ও সিকিমে স্নোফলের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১৫ দিনে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হলেও আপাতত তুষারপাতের ইঙ্গিত মিলছে। বুধবার দার্জিলিং থেকে স্পষ্ট দেখা গেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তুষারপাতের আশায় বহু পর্যটক আগাম বুকিং সেরে ফিরে যাচ্ছেন। এ বছর লা নিনার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই শীত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হবে বলে পূর্বাভাস। পাহাড়ে ঠান্ডা কতটা নামতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দার্জিলিংয়ের ভোরের তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ ডিগ্রিতে, গ্যাংটকের তাপমাত্রাও ঘোরাফেরা করছে ৭ ডিগ্রির আশপাশে।

প্রতি বছর যেমন এই সময় পর্যটকেরা ঠান্ডার আমেজ নিতে পাহাড়ে ভিড় করেন, এ বছর তুষারপাতের সম্ভাবনা সেই ভিড়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, দার্জিলিংয়ে যদি বরফ পড়ে, সিকিম শুকনো থাকার প্রশ্নই নেই। ফলে বড়দিনের মরসুমে পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল আরও বাড়বে বলেই আশা। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানিয়েছেন, পুজোয় পর্যটন যে ধাক্কা খেয়েছিল, বড়দিনের মরসুমে তা অনেকটাই সামলে উঠতে পারবে। তুষারপাত হলে ভিড় আরও বাড়বে।

সিকিমের হোটেল ব্যবসায়ীরাও যথেষ্ট আশাবাদী। সেখানে বহু বাঙালি লিজে হোটেল চালান, এবং বাঙালি পর্যটকদের ভিড়ও সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় ওই হোটেলগুলিতে। তবে উৎসবের এই আনন্দের মধ্যেও কিছু মনখারাপের খবর আছে। আবগারি দফতরের নির্দেশে তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে জনপ্রিয় পানশালা ‘প্লেনারিজ়’-এর বার। পাশাপাশি লোকাল সাইটসিয়িং ঘিরে পাহাড়-সমতলের গাড়িচালকদের মধ্যে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও ব্যবসায়ীদের আশা, বড়দিনের ভিড় বাড়লে এই সমস্যাগুলিও দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যাবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top