বীরভূম – যাবতীয় বিতর্ক দূরে ঠেলে এ বছর সুষ্ঠুভাবে পৌষ মেলা আয়োজনের দাবি জানাল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। অতীতের উপাচার্যের করা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত রাখতে একযোগে সচেষ্ট প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর প্রবীর কুমার ঘোষ।
দীর্ঘ বৈঠকের পর উপাচার্য জানান, এবার থেকেই প্রথমবার ১০০ শতাংশ স্টল অনলাইনে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতবার স্টল বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তাই সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে—অনলাইন ছাড়া কোনওভাবেই স্টল দেওয়া হবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ৭৫ শতাংশ স্টল দেওয়া হবে, বাকি ২৫ শতাংশের জন্য অনলাইন আবেদন খোলা থাকবে। নগদ লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। যদি কোনও কারণে স্টল ফিরিয়ে দেওয়া হয়, আবেদনকারীর জমা টাকা একদিনের মধ্যেই অনলাইনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হবে।
মেলার মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বোলপুর পুরসভা। কয়েক লক্ষ দর্শনার্থীর নিরাপত্তায় বীরভূম জেলা পুলিশ ছয় দিনব্যাপী মেলা মাঠে ক্যাম্প করে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া বিশ্বভারতী ও জেলা পুলিশের যৌথ তদন্ত কমিটি মেলা শুরুর তিন দিন আগে স্টল বরাদ্দ সঠিকভাবে হয়েছে কিনা স্বচক্ষে যাচাই করবে, যাতে প্রকৃত আবেদনকারীই স্টল পান।
এবার স্টলের সংখ্যা বাড়লেও ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনও ভাড়াও নেবে না বিশ্ববিদ্যালয়, তবে সরকারি ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে। শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার জানান, বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ছয় দিন ধরেই চলবে পৌষ মেলা।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছা নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন প্রশাসন। সভাধিপতি কাজল শেখও আগের মতো দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশ্বাস দেন। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন ও পুলিশ সুপার আমনদীপ।




















