রাজ্য – কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে ফিরেছে জাঁকিয়ে শীতের আবহ। হু হু করে নামছে পারদের ওঠানামা। এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা মরসুমের তুলনায় স্বাভাবিকের কাছাকাছি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী সাতদিন এই শীতের স্পেল বজায় থাকবে। বড় কোনও তাপমাত্রার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সকালের দিকে হালকা কুয়াশায় ঢেকে থাকলেও দুপুর গড়াতেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে উঠবে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় কুয়াশার প্রকোপ বেশি দেখা দিতে পারে, পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও ভোরের দিকে কুয়াশা বিস্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া থাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট আরও স্পষ্ট। সকালে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে, বিশেষত দার্জিলিংসহ পার্বত্য অঞ্চলে দৃশ্যমানতা কমে ২০০ মিটার পর্যন্ত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। দিনের বেলায় শীতের অনুভূতি কিছুটা কমলেও সকাল-সন্ধ্যায় ঠান্ডার প্রভাব বজায় থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে, দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থান করছে একটি আপার এয়ার সার্কুলেশন। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরেও আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিম ভারতে নতুন করে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আছড়ে পড়বে ১৩ ডিসেম্বর। ফলে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শীত আরও জাঁকিয়ে বসতে পারে।
শুধু বাংলা নয়, ভিনরাজ্যেও শৈত্যপ্রবাহের দাপট বাড়ছে। মহারাষ্ট্র, উত্তর কর্নাটক ও তেলেঙ্গানায় ইতিমধ্যেই শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছত্তিশগড়, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশাতেও জারি হয়েছে ঠান্ডার সতর্কতা। রাজধানী দিল্লি থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ—সর্বত্রই ঘন কুয়াশার সতর্কতা বলবৎ রয়েছে। একই চিত্র উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতেও; অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় জাঁকিয়ে কুয়াশা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সর্বত্রই স্পষ্ট, ডিসেম্বরের শুরুতেই দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই শীতের দাপট তীব্র হতে শুরু করেছে।




















