কলকাতা – অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের কলকাতায় পা রাখলেন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি (Leo Messi)। ২০১১ সালের পর দ্বিতীয়বার কলকাতায় এলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তাঁর এই আগমন ঘিরে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো, যা রাতের অন্ধকার আর প্রবল শীতকেও হার মানিয়েছে।
ঘড়ির কাঁটা তখন ২টা ১৬ মিনিট। কলকাতার আকাশে অবতরণ করে মেসির ব্যক্তিগত গালফস্ট্রিম ভি বিমান। বার্সেলোনা থেকে সরাসরি কলকাতায় পৌঁছালেও বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বেরোননি তিনি। টারম্যাক থেকেই গাড়িতে উঠে ভিআইপি কারওয়ে দিয়ে বেরিয়ে যায় মেসির কনভয়। তখন সময় ৩টা ১৯ মিনিট। সেই মুহূর্তে রাতের শীত উপেক্ষা করেও বিমানবন্দর সংলগ্ন ভিআইপি রোডে ভিড় জমিয়েছিলেন অগণিত ভক্ত, শুধুমাত্র তাঁদের স্বপ্নের নায়ককে এক ঝলক দেখার আশায়।
মেসি আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে ভক্তদের ঢল নামে। উন্মাদনার সেই দৃশ্য যেন নিজেই এক ইতিহাস। ব্লেজার পরিহিত মেসি গাড়ির পিছনের আসনে বসেই জানালার ফাঁক দিয়ে দেখলেন তাঁর ভক্তদের। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে তাঁকে ঘিরে এমন আবেগ, এমন উন্মাদনা—সব দেখে তিনিও যে মুগ্ধ হয়েছিলেন, তা স্পষ্ট।
বিমানবন্দর থেকে বাইপাসের ধারে হোটেল পর্যন্ত গোটা রাস্তায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। জেট প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় মেসির যাত্রাপথ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালে শেষবার কলকাতায় আসার সময় মেসি তখনও আজকের মতো বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি হয়ে ওঠেননি। গত ১৪ বছরে তিনি খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ, যার শেষটিতে তিনি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। পাশাপাশি তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেটে যুক্ত হয়েছে দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি ফাইনালিসিমা, সঙ্গে ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য।
ফলে সেদিনের তরুণ মেসি আর আজকের কেরিয়ারের বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে থাকা মেসির মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। মারাদোনার প্রকৃত উত্তরসূরি যে তিনি, তা নিজের কৃতিত্বেই প্রমাণ করে দিয়েছেন। কলকাতায় মাত্র সাড়ে ১২ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফর হলেও তার মধ্যেই ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে মহাতারকার।
সকালে হোটেলে স্পন্সরদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মেসির। এরপর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ কনসার্ট। জানা যাচ্ছে, সাড়ে এগারোটা নাগাদ যুবভারতীতে প্রবেশ করতে পারেন তিনি। বন্দে মাতরম গানের মাধ্যমে মেসিকে স্বাগত জানানো হবে, যে গানটি গাইবেন শিল্পী অনীক ধর। ফুটবল আর আবেগের এই মিলনমেলায় আজ ফের সাক্ষী থাকল কলকাতা।




















