দলছুট হাতির হানায় মৃত্যু কৃষকের, বাঁকুড়ার জঙ্গলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

দলছুট হাতির হানায় মৃত্যু কৃষকের, বাঁকুড়ার জঙ্গলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বাঁকুড়া – চাষের কাজ দেখতে গভীর রাতে জমিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই দলছুট হাতির হানায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক কৃষকের। হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে বাঁকুড়ার বাঁকাদহ রেঞ্জের গভীর জঙ্গলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কৃষকের নাম রামপদ হেমব্রম। তিনি কুড়চিডাঙা এলাকার বাসিন্দা। পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ও দুই ছেলে। শুক্রবার রাত প্রায় বারোটা নাগাদ তিনি জমিতে লাগানো আলুর চাষ দেখতে বাড়ি থেকে বেরোন। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাঁকাদহ রেঞ্জের আমডহরা বিটের বেলশুলিয়া অঞ্চলের আস্থাশোল জঙ্গল এলাকায় আচমকাই হাতির হানায় প্রাণ হারান তিনি।

বনদপ্তর জানিয়েছে, ওই সময় ২৩টি হাতির একটি দল বাঁকুড়া সীমানা পেরিয়ে মেদিনীপুরের জঙ্গলের দিকে যাচ্ছিল। মেদিনীপুর সীমান্ত থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে কিছু হাতি এগিয়ে যায়, তবে পিছনে থেকে যায় ২-৩টি হাতি। সেই সময়ই চাষের জমিতে উপস্থিত ছিলেন রামপদ হেমব্রম। আচমকাই অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে পিছন দিক থেকে দৌড়ে আসে একটি হাতি। পালানোর কোনও সুযোগ না পেয়ে হাতির পায়ের নিচেই পিষ্ট হন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

দুর্ঘটনার পর ঘাতক হাতিসহ প্রায় ১৫টি হাতি মেদিনীপুরের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। তবে বাকি ৮টি হাতি মেদিনীপুরে প্রবেশ না করে বাঁকাদহ রেঞ্জের আস্থাশোল জঙ্গল এলাকায় ফিরে আসে। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বনদপ্তর।

মৃতের স্ত্রী সজনী হেমব্রম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রাত্রি বারোটা নাগাদ জমিতে আলু লাগানো দেখতে গিয়েছিলেন। তারপর এই ঘটনা ঘটেছে শুনছি। দু’টো ছোট ছেলে রয়েছে, এখন কী করে সংসার চলবে?” তাঁর কথায় অসহায়তার ছাপ স্পষ্ট।

বাঁকাদহ রেঞ্জের বন আধিকারিক সোনিয়া মজুমদার জানান, ওই সময় রামপদ হেমব্রম কেন জঙ্গলে গিয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি হাতি দেখতে গিয়েছিলেন নাকি অন্য কোনও কাজে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হাতির চলাচলের সময় অতিরিক্ত মানুষের ভিড় এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ। আধিকারিকের দাবি, শনিবার রাতে হাতি দেখতে ৪০০ থেকে ৫০০ জন মানুষ ভিড় করেছিলেন। ছবি তোলা, ভিডিও বা রিল বানানোর নেশায় অনেকেই বিপজ্জনকভাবে হাতির খুব কাছে চলে যান। এতে হাতিরা আতঙ্কিত হয়ে স্বাভাবিক চলার পথ হারিয়ে ফেলে, যার ফলেই বাড়ছে দুর্ঘটনা ও চাষের জমির ক্ষয়ক্ষতি।

বনদপ্তর ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত, সরকারি ক্ষতিপূরণ এবং সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top