কলকাতা – যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির সফর ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ে সরব হলেন রাজ্যপাল। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তিনি বলেন, সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং গোটা এলাকাটি নিজে ঘুরে দেখেছেন। তাঁর কথায়, ভক্তদের কাছে মেসি একজন ‘মাসিয়া’, অথচ তাঁর সফরটি অবিশ্বাস্য রকম বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছিল। এই ঘটনার জন্য আয়োজক সংস্থা, রাজ্য সরকার, পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের ব্যর্থতা—সব দিকই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যপাল জানান, ইতিমধ্যেই গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন এবং কমিটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তাঁর মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যাচ্ছে না। পুরো ঘটনাটি কলকাতার মানুষের জন্য এক ধরনের অবর্ণনীয় লজ্জা এনে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে একটি স্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলার পর রাজ্যপাল জানান, তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত, আয়োজকদের গ্রেপ্তার করতে হবে, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হবে এবং প্রয়োজনে আয়োজকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য এসওপি প্রণয়ন ও বীমা প্রকল্প চালুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজ্যপাল আরও জানান, এই ঘটনায় স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দু’ধরনের ব্যবস্থাই প্রয়োজন। তিনি ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ এবং ভারত সরকারের কাছেও এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন। গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, সাধারণ মানুষের অনুভূতি ছিল যে তাঁদের আবেগ ও প্রত্যাশাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। আর এই উপেক্ষাই শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে তিনি স্পষ্ট করেন।




















