বিনোদন – বলিউডের নতুন ছবি ধুরন্ধর (Dhurandhar) এখন দেশজুড়ে আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে। এক দিকে দর্শকরা অক্ষয় খান্না ও রনবীর সিংয়ের অভিনয়কে প্রশংসা করছেন। বিশেষ করে অক্ষয়ের ‘রহমান ডাকাইত’ চরিত্রকে তাঁর জন্যই তৈরি মনে করছেন অনেকেই। রনবীরের শার্প ফিচার ও মানানসই অভিব্যক্তির তুলনা মিলছে না। অন্য দিকে ছবিটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি তিন পি-র (P) ককটেল—পাকিস্তান, প্যাট্রিয়টিজম ও প্রোপাগাণ্ডা, অর্থাৎ জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো একটি ছবি কিনা।
প্রযোজক ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ধুরন্ধরের সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar 2 The Revenge) মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ। প্রথম পার্টটি ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে এবং বক্স অফিসে এখনও রমরমা করছে। কলকাতায় নাইট শো প্রায় হাউজফুল চলছে। ছবিটি ইতিমধ্যেই ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। প্রথম পার্টের মুক্তির মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে পার্ট টু-র মুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় কৌতূহলও তৈরি হয়েছে—দর্শকরা জানতে চাইছেন, এটি কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নাকি বিশুদ্ধ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা।
মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুডুচেরিতে ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা। ভোটের ১০-১২ দিন আগে পাকিস্তান ও আইএসআই-সংক্রান্ত রিভেঞ্জ কাহিনির ওপর ভিত্তি করে ধুরন্ধর পার্ট টু-র মুক্তি ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বালাকোটের ঘটনা এবং জাতীয়তাবাদের বিষয়কে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কৌশল বলেও অভিযোগ তুলেছে কেউ কেউ।
পরিচালক আদিত্য ধর-এর স্পাই থ্রিলারটি মুক্তির পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে সরকারি প্রোপাগান্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রধানের চরিত্রকে মহিমান্বিত করার বিষয়টি নজর কেড়েছে। ছবিতে গোয়েন্দা অজয় সান্যাল চরিত্রটি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রধান তথা বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের অনুপ্রেরণায় তৈরি বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
ছবিতে রণবীর সিং অভিনয় করেছেন হামজা মাজাকি নামের ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায়, যাকে পাকিস্তানের করাচিতে বিশেষ মিশনে পাঠিয়েছেন সেন্ট্রাল আইবি চিফ অজয় সান্যাল। কাহিনিতে রয়েছে করাচির গ্যাং-ওয়ার, অপরাধচক্র, পাকিস্তানি গুপ্তচর নেটওয়ার্ক এবং ভারত-পাকিস্তান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিস্ফোরক উপস্থাপন।
ছবির কাহিনিতে কন্দাহার বিমান হাইজ্যাকিং, ২০০১-এর সংসদে সন্ত্রাসী হামলা এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলা-সহ বাস্তব রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর পটভূমিকায় গোপন গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড দেখানো হয়েছে। ছবিতে কিছু বাস্তব ফুটেজও ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রাফিক দৃশ্য ও থ্রিলের জন্য প্রশংসা পেয়েছে, তবে হাইপার-ন্যাশনালিস্ট ভাব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তির আগে এক প্রয়াত সেনা কর্মকর্তার পরিবার অভিযোগ করেছিল, কিছু অংশ তাঁর জীবনী থেকে অনুমতি ছাড়া নেওয়া হয়েছে, যদিও পরিচালক তা অস্বীকার করেছেন। সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ‘ফিকশন’ হিসেবে ছাড়পত্র দিয়েছে।
কেন্দ্রের সরকার জানিয়েছে, সিনেমাটি শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড দেখিয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে এর কোনো যোগ নেই। বিজেপি নেতা রোহন গুপ্তা বলেছেন, “সবকিছুকে ধর্মের সঙ্গে জড়ানো উচিত নয়। ‘ধুরন্ধর’ একটি সত্য ঘটনাভিত্তিক সিনেমা এবং দর্শকরা নিজেদের বিচার করতে পারবে।” তবে বিরোধীরা মনে করছেন, ছবিটি সরকারি বর্ণনার অংশ এবং রাজনৈতিক ভাষ্য স্পষ্ট।




















