দিল্লী – ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর এবার একই পথে হাঁটল আমেরিকার পড়শি দেশ মেক্সিকো। ভারতের কিছু পণ্যের উপর সমপরিমাণ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এ বার এই ইস্যুতে মুখ খুলল নয়াদিল্লি। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবে ভারতও উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে পারে।
নতুন শুল্ক নীতিতে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে মেক্সিকোর সেনেট। সেই নীতিতে বলা হয়েছে, যে সব দেশের সঙ্গে মেক্সিকোর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই, তাদের পণ্যের উপর ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চিন এবং থাইল্যান্ড।
সূত্রের খবর, এই শুল্ক নীতি কার্যকর হওয়ার আগেই মেক্সিকোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যাতে ভারতকে এই নয়া শুল্ক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়। তবে ভারতের সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি মেক্সিকো সরকার।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, মেক্সিকোর পার্লামেন্টে শুল্ক সংক্রান্ত বিল পেশ হওয়ার পরপরই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্ব বাণিজ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে উভয় দেশই উপকৃত হয়। এই বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক ও মেক্সিকোর অর্থ মন্ত্রকের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। ভবিষ্যতেও আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ওই আধিকারিক আরও বলেন, ভারতের রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। একইসঙ্গে মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ভারত গুরুত্ব দেয় বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভারত থেকে মূলত গাড়ির যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, জৈব রাসায়নিক, ওষুধ, পোশাক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য মেক্সিকোতে রফতানি করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মেক্সিকোতে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছিল ভারত। অন্যদিকে, একই সময়ে মেক্সিকো থেকে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছিল।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনও রকম পূর্ব আলোচনা ছাড়াই মেক্সিকোর এই উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে নয়াদিল্লি যে সন্তুষ্ট নয়, তাও সরকারি সূত্রে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার, আলোচনা কোন দিকে গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারত কী ধরনের পাল্টা কৌশল নেয়।




















