দিল্লী – কলকাতা, হায়দরাবাদ ও মুম্বই পর্ব শেষ করে সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে আসছেন ফুটবল-সম্রাট লিওনেল মেসি। সূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি রাজধানীতে পৌঁছবেন। পৌঁছনোর পর শহরের একটি হোটেলে প্রায় ৫০ মিনিটের ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেশনে অংশ নেবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এর পরই মেসি যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে। সেখানে প্রায় ২০ মিনিটের একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক ও ক্রীড়ামহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মেসির সূচিতে রয়েছে আরও একাধিক ভিভিআইপি বৈঠক।
সূত্রের খবর, এরপর তিনি এক সাংসদের বাড়িতে যাবেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো আগুস্তিন কউসিনো। পাশাপাশি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গেও সাক্ষাতের কথা রয়েছে মেসির সূচিতে।
সব ভিভিআইপি কর্মসূচি শেষ করে বিকেলের দিকে মেসি পৌঁছবেন অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। বিকেল ৩টে ৩০ মিনিটে স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর তাঁকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে থাকছে সংগীতানুষ্ঠান। স্টেডিয়ামের একটি ছোট ফুটবল মাঠে ভারতীয় কয়েকজন সেলিব্রিটির অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজন করা হবে, যেখানে মেসি খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানা গিয়েছে।
এর পর বিকেল ৩টে ৫৫ মিনিট থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ২২ জন শিশুকে নিয়ে একটি ফুটবল ক্লিনিকে অংশ নেবেন লিওনেল মেসি। তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ফুটবলের মৌলিক দিকগুলি ভাগ করে নেওয়াই এই ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের শেষে মাঠের মাঝখানে দুই জন ভারতীয় ক্রিকেটার মেসিকে বিশেষ উপহার দেবেন। পাল্টা মেসি তাঁদের হাতে তুলে দেবেন দুটি আগে থেকেই সই করা জার্সি।
মেসির আগমন ঘিরে রাজধানীতে লক্ষাধিক ভক্তের ভিড়ের আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সেই কারণে অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বৈধ পাস ছাড়া কাউকে স্টেডিয়াম বা নির্দিষ্ট এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।
দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলাকালীন শহরে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ট্র্যাফিক অ্যাডভাইসরি জারি করা হয়েছে। স্টেডিয়াম সংলগ্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন থাকবে। বেআইনি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্টেডিয়াম চত্বরে অ্যান্টি-স্যাবোটাজ চেক, একাধিক ফ্রিস্কিং পয়েন্ট ও সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল ও জরুরি পরিষেবাও পুরো সময় জুড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, মেসির সফর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে, ফুটবল-সম্রাটের আগমনকে ঘিরে দিল্লি এখন মেসি-উন্মাদনায় মেতে উঠতে চলেছে, আর সেই উন্মাদনা সামলাতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন।




















