দেশ – দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে জর্ডান সফরে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার আম্মানে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে গাজা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। বৈঠকের শেষে ভারত ও জর্ডানের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফর প্রধানমন্ত্রী মোদীর তিন দেশের বিদেশ সফরের প্রথম ধাপ। জর্ডানের পর তিনি ইথিওপিয়া ও ওমান সফরে যাবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৩৭ বছরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরে জর্ডানে এলেন। একই সঙ্গে চলতি বছরে ভারত-জর্ডান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আম্মানের বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান।
আম্মানের হুসেইনিয়া প্রাসাদে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনাও হয়। সেই বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমন, কৃষি ও সার, পর্যটন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ভারত ও জর্ডান বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী। ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, সার শিল্প এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। বর্তমানে ভারত জর্ডানের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ এখন ২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের পরে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিগুলি মূলত নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জর্ডানের সক্রিয় উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব শান্তির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, এই সফর ভারত ও জর্ডানের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।




















