দেশ – গত নভেম্বরে ভারতের রফতানি তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়েছে। মাসটিতে রফতানি ১৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মূলত আমেরিকা ও চিনের বাজারে পণ্য রফতানি বাড়ার ফলেই এই উল্লম্ফন বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে আমদানি ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.৭ বিলিয়ন ডলারে।
রফতানি বৃদ্ধি ও আমদানি কমার জেরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। জুন মাসের পর এই প্রথম বাণিজ্য ঘাটতি নেমে এসেছে ২৪.৬ বিলিয়ন ডলারে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে আমেরিকায় ভারতের রফতানি ২২.৬ শতাংশ বেড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও সেই সময় মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্কের চাপ কার্যকর ছিল। অন্যদিকে, চিনে ভারতের রফতানি এক ধাক্কায় ৯০ শতাংশ বেড়ে ২.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে নভেম্বর মাসে ভারতের রফতানির ক্ষেত্রে চিন তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, নেদারল্যান্ডসকে পিছনে ফেলে। যদিও এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিক হিসেবে নেদারল্যান্ডস এখনও সামান্য এগিয়ে রয়েছে।
বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, শুল্কের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত রফতানির গতি ধরে রাখতে পেরেছে। তাঁর মতে, আমদানি বৃদ্ধিও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত। ICRA-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ আদিতি নায়ার বলেন, উৎসব পরবর্তী সময়ে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা কিছুটা কম থাকায় আমদানির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।
উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে ভারতের রফতানি প্রায় ১২ শতাংশ কমেছিল, যার প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধিকেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে নভেম্বর মাসে রফতানি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী পীয়ূষ গোয়েল জানিয়েছেন, নভেম্বরের রফতানি বৃদ্ধির ফলে অক্টোবরের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে গিয়েছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নভেম্বর মাসে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও গহনা, ওষুধ, রসায়ন, তেলজাত পণ্য এবং টেক্সটাইল ক্ষেত্রে ভালো রফতানি বৃদ্ধি হয়েছে। যদিও চাল, তেলবীজ, প্লাস্টিক, জুট পণ্য এবং কার্পেটের রফতানিতে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
অন্যদিকে, সোনার আমদানি ৫৯ শতাংশ কমে ৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ক্রুড তেলের আমদানি ১১.৩ শতাংশ কমে ১৪ বিলিয়ন ডলারে এবং ভেজিটেবল অয়েলের আমদানি ২০ শতাংশ কমে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে ইলেকট্রনিক্স আমদানি ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রূপোর আমদানি বেড়েছে ১২৫ শতাংশ এবং মুক্তো ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরের আমদানি বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।
সার্ভিস খাতেও ইতিবাচক চিত্র ধরা পড়েছে। নভেম্বর মাসে সার্ভিস রফতানি ১১.৯ শতাংশ বেড়ে ৩৫.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সার্ভিস আমদানি ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ বিলিয়ন ডলারে। রফতানিকারী সংগঠন FIEO জানিয়েছে, বাজারের বৈচিত্র্য, প্রধান খাতগুলির স্থিতিশীলতা এবং সরকারের নীতিগত সহায়তাই এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। পর্যাপ্ত লজিস্টিক সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের ফলে আগামী মাসগুলিতেও রফতানির এই গতি বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।




















