২০২৬-এর ভোটের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটার, প্রকাশিত খসড়া তালিকা

২০২৬-এর ভোটের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটার, প্রকাশিত খসড়া তালিকা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য -২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদল। মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত হল নাম বাদের খসড়া তালিকা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যে ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ceowestbengal.wb.gov.in/asd_sir ওয়েবসাইটে লগইন করলেই জানা যাবে ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ গিয়েছে কি না। এছাড়াও voters.eci.gov.in ওয়েবসাইট কিংবা প্লেস্টোর থেকে ECINET অ্যাপ ডাউনলোড করেও ভোটাররা নিজেদের নাম যাচাই করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন—দু’ভাবেই খসড়া ভোটার তালিকা দেখা যাবে। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের নাম ও ভোটার কার্ডের নম্বর (EPIC) দিলেই জানা যাবে তালিকায় নাম রয়েছে কি না। অনলাইনে যাচাই করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে গিয়ে সবুজ রঙের ‘Search Your Name in Voter List’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ‘Search by Voter ID / EPIC’ বেছে নিয়ে ভোটার আইডি নম্বর দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ফল জানা যাবে।

অফলাইনে যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কাছে খসড়া তালিকার হার্ড কপি থাকবে। নিজের বুথের বিএলও-র কাছে গিয়েও ভোটাররা জানতে পারবেন তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন ভোটারদের সুবিধার জন্য বিএলও-দের যতটা সম্ভব বুথে উপস্থিত থাকতে বলা হবে।

এ ছাড়াও রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের হাতে খসড়া তালিকার সফ্ট কপি তুলে দেবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জেলা স্তর থেকে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) কাছেও হার্ড কপি পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁদের মাধ্যমেও ভোটাররা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ, ডুপ্লিকেট এবং অন্যান্য একাধিক কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আপত্তি ও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই বা ওই তালিকায় পরিবারের কোনও সদস্যের নাম নেই—এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। পাশাপাশি যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, এমন ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৫৬ জন ভোটারকেও নোটিস পাঠানো হতে পারে। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাঁদের বয়স এখন ৪৫, তাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই যাচাই প্রক্রিয়া।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রায় ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। আবার বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর এমন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৩৬। এই ধরনের অসঙ্গতি থাকায় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রায় সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

খসড়া তালিকায় নাম থাকলেই যে চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে, এমন নয়। আবার খসড়া তালিকায় নাম না থাকলেও যদি প্রয়োজনীয় নথি সঠিক থাকে, তবে ৬ নম্বর ফর্ম (Name Inclusion) পূরণ করে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কমিশনের দাবি, যাঁদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তথ্যগত বা টেকনিক্যাল ভুল রয়েছে, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়বে না।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সে সময় রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। রবিবার পর্যন্ত সেই তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এনুমারেশন ফর্মে শুধু সই করলেও খসড়া তালিকায় নাম ওঠার কথা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সমস্ত তথ্য আবারও যাচাই করা হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top