দিল্লি – গোয়ার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামের নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন ক্লাবের মালিক দুই ভাই গৌরব ও সৌরভ লুথরা। মঙ্গলবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের গোয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লির আদালত গোয়া পুলিশকে দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। আজই তাঁদের গোয়ার ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে।
নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুন ও চরম অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে লুথরা ভাইদের। দিল্লির আদালতে ট্রানজিট রিমান্ড চেয়ে আবেদনের সময় গোয়া পুলিশ জানায়, লুথরা পরিবারই ওই নাইটক্লাবের প্রধান মালিক। ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনুমোদন এবং সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলির উপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁদের হাতেই।
গ্রেপ্তারের সময় দুই ভাইয়ের একজনের পরনে ছিল সাদা রঙের হুডি, অপরজন পরেছিলেন কালো সোয়েটশার্ট ও মাস্ক। প্রথমে তাঁদের আটক করে বিমানে তোলা হয় এবং ভারতে ফেরার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, পার্টি চলাকালীন ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন লাগে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ২৫ জনের। তদন্তে নেমে একাধিক গুরুতর অনিয়মের তথ্য সামনে আসে। বেআইনি নির্মাণ, সংকীর্ণ ও অপর্যাপ্ত প্রবেশপথ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে ক্লাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আগুন লাগার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে লুথরা ভাইরা থাইল্যান্ড যাওয়ার টিকিট কেটে ফেলেছিলেন। অর্থাৎ দমকল বাহিনী যখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়েই তাঁরা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেন। পরে জানা যায়, তাঁরা থাইল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। যদিও তাঁদের আইনজীবীরা দাবি করেন, আগেই থাইল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা ছিল।
লুথরা ভাইদের খোঁজ পেতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়। তাঁদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছিলেন, আইনি সুরক্ষা পেলে তাঁরা দেশে ফিরবেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের আটক করা হয় এবং দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রসঙ্গত, হোটেল ও বিনোদন ব্যবসায় প্রভাবশালী হিসেবেই পরিচিত লুথরা ভাইরা। এই ঘটনার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বড়সড় কর্পোরেট জালিয়াতির অভিযোগও সামনে এসেছে। গোয়া পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সমস্ত দায়িত্ব ও গাফিলতি খতিয়ে দেখা হবে।




















