বিনোদন – দেশের প্রথম বিশ্বজয়ী অধিনায়ক হয়েও নিজের সাফল্যের স্মৃতিকে বাড়ির দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখতে নারাজ কপিল দেব নিখাঞ্জ। বৃহস্পতিবার শহরে এক অনুষ্ঠানে এসে স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, তিনি অতীতে নয়, বর্তমানেই বাঁচতে ভালোবাসেন। তাই নিজের ঘরে নিজের একটি ছবিও রাখেন না কপিল। তাঁর কথায়, অনেকের বাড়িতে ঢুকলে দেখা যায় চারপাশ জুড়ে শুধুই নিজের ছবি। এমনটা দেখলে তাঁদের উদ্দেশে কপিলের প্রশ্ন, “আর কবে তোমরা পরিণত হবে?”
ক্রিকেটের দর্শনেও বরাবরের মতোই ভিন্নমত পোষণ করেন কপিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘কোচ’ শব্দটির অস্তিত্বই মানতে চান না তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীরকে ঘিরে যে বিতর্ক চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনেই কপিল বলেন, গম্ভীর আসলে কোচ নন, একজন ম্যানেজার। তাঁর মতে, স্কুল পর্যায় পর্যন্ত কোচিং প্রাসঙ্গিক হলেও আন্তর্জাতিক স্তরে তা কার্যত অপ্রয়োজনীয়। একজন প্রাক্তন ব্যাটার কীভাবে একজন লেগস্পিনারকে কোচিং দেবেন—এই প্রশ্নও তোলেন কপিল।
অনুষ্ঠানে কপিলের পাশে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রাক্তন মহিলা অধিনায়ক মিতালি রাজ। ভারতীয় মহিলা দলের সাম্প্রতিক বিশ্বজয় এখনও আবেগে ভাসাচ্ছে মিতালিকে। তিনি জানান, একাধিকবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে ট্রফি অন্য দলের হাতে যেতে দেখেছেন তাঁরা। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত যখন ভারতের নাম কাপের গায়ে খোদাই হল, সেই রাত তাঁর পক্ষে ভোলা অসম্ভব।
সেই আবেগঘন মুহূর্তের মাঝেই উঠে এল কপিলের সময়কার এক মজার স্মৃতি। কপিল জানান, তাঁদের সময় ক্রিকেটে অর্থের অভাব ছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শ্যাম্পেন এলেও, বিল মেটানোর টাকা ছিল না দলের কাছে। সফরের শেষে অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন, বাসন মাজতে হবে। শেষ পর্যন্ত এক সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে শ্যাম্পেনের বিল মিটিয়ে দেন—আজও সেই ঘটনা হাসিমুখে স্মরণ করেন তিরাশির বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।




















