পশ্চিম মেদিনীপুরে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় বদল, ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণি

পশ্চিম মেদিনীপুরে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় বদল, ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



পশ্চিম মেদিনীপুর – আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু হতে চলেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে পঞ্চম শ্রেণি চালু করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো, শিক্ষক সংখ্যা ও শিক্ষার পরিবেশ উপযুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ দে।

তিনি জানান, রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ থেকে জেলার জন্য ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা পাঠানো হয়েছে। ওই বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো-সহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই বিদ্যালয়গুলিতে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন চালু করা হবে। ধাপে ধাপে জেলার সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে জানুয়ারি মাস থেকেই শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়।

জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশিকা মেনে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধীরে ধীরে হাই স্কুলগুলি থেকে পঞ্চম শ্রেণি তুলে নিয়ে তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু হয়ে গিয়েছে।

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বর্তমানে ৪৯ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন চালু হয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কোনও হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির অস্তিত্ব থাকবে না।

রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের মোট ২,২০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন চালু হবে। তার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অংশ ৭৮টি বিদ্যালয়। তবে বিদ্যালয় বাছাই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘাটালের দাসপুর-২ ব্লকের সীতাপুর বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপনকুমার জানা। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, শিক্ষক ও ছাত্রসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা হয়নি। অথচ এমন বহু বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি চালু হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা শিক্ষক সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ।

এই বিষয়ে এবিপিটিএ-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হচ্ছিল, যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন চালু করা হোক। তবে সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ (ACR) ও শিক্ষক নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ক্রমশ অবহেলিত হয়ে পড়ছে। যথাযথ পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগ না হলে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা লাভের বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top