রাজ্য – ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্বে ইলেক্টোরাল রোল মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কমিশন। শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৩২৪(৬) অনুচ্ছেদ এবং ‘ম্যানুয়াল অন ইলেক্টোরাল রোলস’ (মার্চ ২০২৩)-এর বিধি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হাতেই দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। কারণ, এর আগেই সিইও দফতরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তার পরদিনই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের ছাড়পত্র এল, যা গোটা প্রক্রিয়ায় কমিশনের বাড়তি সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ‘বি’ বা তার ঊর্ধ্বতন স্তরের আধিকারিকদের নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কিংবা জাতীয়কৃত ব্যাঙ্কের সমপর্যায়ের আধিকারিকদেরও বেছে নেওয়া হতে পারে। কাজের সময় তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অধীনে ডেপুটেশনে থাকবেন।
ভোটার তালিকা তৈরির প্রতিটি ধাপে নজরদারিই হবে মাইক্রো অবজার্ভারদের মূল দায়িত্ব। BLO-দের ডিজিটাইজ করা এনুমারেশন ফর্ম যাচাই, জন্ম ও মৃত্যুর নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার তুলনা, দাবি ও আপত্তির ক্ষেত্রে জমা পড়া নথি পরীক্ষা, শুনানি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং ত্রুটি বা অসঙ্গতি চিহ্নিত করার কাজ করবেন তাঁরা। পাশাপাশি পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে নির্বাচনী অবজার্ভারদের সহায়তা করবেন এবং প্রয়োজনে CEO বা বিশেষ নির্বাচনী অবজার্ভারের দেওয়া অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করবেন।
জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা মাইক্রো অবজার্ভারদের জন্য লজিস্টিক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। এই সময় তাঁরা শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজেই যুক্ত থাকবেন এবং নিজ নিজ দফতরে তাঁদের অনুপস্থিতি ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই গণ্য হবে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত মাইক্রো অবজার্ভাররা কাজ করবেন। এই সময়ের জন্য তাঁদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, যা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নিজস্ব ক্যাডার থেকেই বহন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
এদিকে এখনও পর্যন্ত সিইও দফতর চূড়ান্তভাবে স্থির করতে পারেনি মোট কতগুলি জায়গায় শুনানি হবে। সূত্রের খবর, যতগুলি রুমে শুনানি হবে, প্রতি রুম পিছু একজন করে মাইক্রো রোল অবজার্ভার নিয়োগ করা হবে। সিইও দফতরের আশ্বাস, শুক্রবারের মধ্যেই এই বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলা হবে।




















