খেলা – প্রবল বায়ুদূষণের জেরে লখনউয়ে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার টি-২০ ম্যাচ বাতিল হওয়ায় প্রশ্নের মুখে সিরিজের শেষ লড়াই। শুক্রবার সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার কথা মেন ইন ব্লুর। কিন্তু সেই ম্যাচও কি দূষণের কবলে পড়বে? ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এই আশঙ্কার মধ্যেই চিন্তা বাড়াচ্ছে আহমেদাবাদের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই।
বুধবার সন্ধে সাতটা থেকে লখনউয়ে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আচমকাই জানা যায়, অত্যধিক বায়ুদূষণের কারণে তৈরি ঘন কুয়াশায় পিছিয়ে যাচ্ছে টস। সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, দু’হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়াকে মাস্ক পরে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে মাঠ ও আশপাশের পরিবেশ পরিদর্শন করেন দুই আম্পায়ার।
দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পরও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় প্রবল দূষণ ও ধোঁয়াশার কারণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে হতাশ হন দর্শক থেকে শুরু করে দুই দলের ক্রিকেটাররাও।
ম্যাচ বাতিল হতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এমন পরিস্থিতিতে লখনউয়ে কেন ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শীতের সময় উত্তর ভারতে বায়ুদূষণের মাত্রা যে ভয়াবহ আকার নেয়, তা নতুন করে জানার কিছু নয়। সেই জায়গায় আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়নি কেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। বোর্ডের অন্দরের একাংশের মতে, এই সময়ে উত্তর ভারতে ম্যাচ আয়োজন করাই ছিল বড় ভুল। যদিও বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা পরে জানিয়েছেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণে আরও সতর্ক হবে বোর্ড।
এই বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেখানেও দূষণের প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়েও নজর রয়েছে সকলের। শুক্রবার সকাল থেকে আহমেদাবাদের একিউআই ঘোরাফেরা করছে ১৬০ থেকে ১৮০-এর মধ্যে, যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় কিছুটা বেশি। সূচক অনুযায়ী, বাতাসের গুণমান অস্বাস্থ্যকর হলেও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষণ বা ধোঁয়াশার কারণে আহমেদাবাদে ম্যাচ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এই ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিজেদের ঝুলিতে পুরে নিতে পারবে মেন ইন ব্লু। তাই সব শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে নামার দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।




















