উত্তর 24 পরগণা – বারাসতে নববধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলে স্বামী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে শ্বশুর ও শাশুড়ি এখনও অধরা। শুক্রবার বিকেলে বারাসত অশ্বিনীপল্লিতে মৃতার শ্বশুরবাড়ির সামনে এবং পরে বারাসত থানার সামনে পরিবারের লোকজন ও পরিচিতরা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভ চলাকালে ইট ছুঁড়ে ভাঙচুরও করা হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
মৃতার দিদি সঞ্চরিতা সরকার ও মা মধুছন্দা সরকার অভিযোগ করেছেন, এটি পরিকল্পনামাফিক খুন, কারণ বিয়েতে প্রদত্ত টাকা ও পণ্যের পরেও শ্বশুরবাড়ি সন্তুষ্ট হয়নি। তাঁদের দাবি, শ্বশুর পুলিশের কর্মকর্তা হওয়ায় পরিবারকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, কিন্তু আইন সবার জন্য সমান। জানা গেছে, বছর তেইশের সুনিতা সরকারের সঙ্গে চার মাস আগে দেখা-শোনার পর বিয়ে হয়েছিল পুলিশ কর্মীর ছেলে সৌম্য দত্তের।
অভিযোগ, বিয়েতে নগদ অর্থ ও সব জিনিসপত্র দেওয়ার পরও শ্বশুরবাড়ি অতিরিক্ত টাকা দাবি করত। বাবার বাড়ি থেকে কিছু টাকা দেওয়ার পরও চাপ বাড়ে এবং সুনিতার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। কয়েক দিন আগে ব্যবসার জন্য সৌম্য ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এত বড় পরিমাণ টাকা একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না হওয়ার কারণে নববধূর উপর অত্যাচার আরও বাড়ে। বুধবার রাতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মৃতার হাতে, পায়ে, নাকে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন থাকায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এই ঘটনায় স্বামী সৌম্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে শ্বশুর ও শাশুড়ি এখনও অধরা। বারাসত জেলা পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খরিয়া জানিয়েছেন, “অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতের পরিবারের বাকিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”




















