দেশ – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক বাংলা সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। সাংবাদিক বৈঠকে মতুয়া নেত্রী মমতাবালা ঠাকুর অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মতুয়াগড়ে এসে “আগুন জ্বালানোর জায়গা তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন।” তাঁর দাবি, মতুয়া সমাজের মধ্যে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে এবং আগামী দিনে তা আরও বাড়বে। এই মন্তব্যের রেশ ধরেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, মতুয়া সমাজ আজ গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে, আর এই বৃহত্তর সমাজের পাশে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, কুয়াশার কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কপ্টার তাহেরপুরে নামতে পারেনি। ফলে তাঁকে দমদমে ফিরিয়ে আনা হয়। দৃশ্যমানতার উন্নতি হলে কপ্টারে কিংবা প্রয়োজনে সড়কপথে সভাস্থলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দমদম বিমানবন্দর থেকেই ভার্চুয়ালি সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
এই বিষয়টিকে ঘিরে কটাক্ষ ছুড়েছেন তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে কৃষ্ণনগরেও নামতে পারতেন, কিন্তু তাঁর অভিধানে নাকি কৃষ্ণনগর নয়, রয়েছে ‘কৃষ্ণগড়’। চন্দ্রিমার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী কোনও কারণে কোথাও উপস্থিত থাকতে না পারলে তাঁকে ‘পালিয়ে যাওয়া’ বলা হয় এবং পদত্যাগের দাবি ওঠে। অথচ আজ প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছতে না পারলেও সেই মানদণ্ড তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এই পরিস্থিতিতে তিনজন মানুষের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি কি উঠবে না?
শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে বসে রাজনৈতিক সভা করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চন্দ্রিমা। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিমানবন্দর তো কেন্দ্রের অধীন এলাকা— সেখানে বসে রাজনৈতিক সভা করা কি সংবিধানসম্মত? তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোনও প্রশ্নের জবাব দেন না। মানুষের কাছেই সব স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তৃণমূল নেত্রীর।
প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপিকে আক্রমণ করে চন্দ্রিমা বলেন, যতই বিরোধিতা করা হোক, বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন অস্বীকার করা যাবে না। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না, অথচ দাবি করছে বাংলার উন্নয়ন করেছে। মানুষ সব বুঝে গেছে বলেই দাবি তৃণমূলের।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্মরণ করিয়ে দেন, কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। তখন কোনও বাধা ছিল না। অথচ এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কেন্দ্রকে পাল্টা আক্রমণ করেছে তৃণমূল। চন্দ্রিমা জানান, সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ যখন জমি চেয়েছে, রাজ্য সরকারের ক্যাবিনেট থেকে তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপরও মুখ্যমন্ত্রী কোথায় সহযোগিতা করেননি, সেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিধানসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যে বিশেষ রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে তৃণমূল। মমতাবালা ঠাকুর অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মতুয়াদের নাগরিকত্বের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে বিজেপি। তাঁর দাবি, মতুয়াদের দেওয়ার মতো কিছুই প্রধানমন্ত্রীর নেই, বরং তাঁদের কাছ থেকে অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোটার হিসেবে যে সামান্য অধিকার তাঁরা পেয়েছিলেন, সেটুকুও খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
ব্রাত্য বসুর কথায়, বিজেপি যে রাজ্যগুলিতে ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে সংখ্যালঘুদের অবস্থা কী, সাংবাদিকদের পরিস্থিতি কেমন— তা সবাই জানেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে এবং কোথায় কোথায় ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে, সে বিষয়েও মানুষ ওয়াকিবহাল বলেই দাবি তৃণমূলের।




















