যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান কাণ্ডে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত, শতদ্রু দত্তের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত প্রায় ২৫ কোটি

যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান কাণ্ডে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত, শতদ্রু দত্তের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত প্রায় ২৫ কোটি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং নিয়মিত জেরা চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুরো ঘটনার আর্থিক দিক খতিয়ে দেখতে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ রিষড়ায় শতদ্রু দত্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তিনতলা বিলাসবহুল ওই বাড়িতে সুইমিং পুল ও ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ রয়েছে। তল্লাশির সময় বাড়িতে কেবল একজন পরিচারিকা উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি ঘরে ঘরে তন্নতন্ন করে খোঁজ চালান তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেসির অনুষ্ঠানে কালো টাকা ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশির পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করেন সিটের আধিকারিকরা। সেই সূত্র ধরেই প্রায় ২৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে এই টাকার উৎস নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ। টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে নাকি স্পনসরদের দেওয়া অর্থ— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে পুলিশি জেরায় একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে মাত্র দেড়শো জনের জন্য গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রভাবশালীদের চাপে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিনগুণ করতে হয়। এই সিদ্ধান্ত থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি তাঁর।
শুধু তাই নয়, শতদ্রু আরও দাবি করেছেন যে লিওনেল মেসির ভারত সফরের জন্য তাঁকে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি কর বাবদ ভারত সরকারকে দিতে হয়েছে আরও ১১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গোটা অনুষ্ঠানের মোট খরচ প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে তাঁর দাবি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিপুল অঙ্কের একাংশ এসেছে বিভিন্ন স্পনসরদের কাছ থেকে, বাকি অর্থ জোগাড় করা হয় টিকিট বিক্রির মাধ্যমে। যুবভারতীর সেই অনুষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম, কালো টাকা ও প্রশাসনিক গাফিলতি— এই সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর ক্রীড়ামহল ও প্রশাসনের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top