তিন মাসের আতঙ্কের অবসান, নকশালবাড়িতে খাঁচাবন্দি দশাসই চিতাবাঘ

তিন মাসের আতঙ্কের অবসান, নকশালবাড়িতে খাঁচাবন্দি দশাসই চিতাবাঘ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

উত্তরবঙ্গ – তিন মাস ধরে যমদূতের মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল এলাকায়। সুযোগ পেলেই গবাদিপশুর ঘাড় মটকে উধাও হচ্ছিল চিতাবাঘটি। আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছিল চা-শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনও হয় নকশালবাড়ি চা বাগানে। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের দাবিতে সাড়া দিয়ে বন দপ্তর খাঁচা বসায়, আর শনিবার ভোরে সেই ফাঁদেই ধরা পড়ে দশাসই চিতাবাঘ। স্বস্তি ফেরে গোটা এলাকায়।
নকশালবাড়ি ও সংলগ্ন বাগডোগরা এলাকায় চিতাবাঘের আনাগোনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপদ্রব মারাত্মক আকার নেয়। একের পর এক গবাদিপশু শিকার হয়। কখনও শিকার না পেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও চা-শ্রমিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসে। চা বাগানগুলিতে কাজ করতে গিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন শ্রমিকরা।
গত ১১ নভেম্বর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শান্তিপুর এলাকায় একটি বাড়ির শৌচাগার থেকে বেরিয়ে এক ব্যক্তির উপর চিতাবাঘের হামলার ঘটনাও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। শুধু নকশালবাড়ি নয়, শিলিগুড়ি মহকুমার নিউ চামটা, মোহরগাঁও, সুকনা, মারাপুর, তরাই, মেরিভিউ, ফুলবাড়ি, অটল, আজমাবাদ, বিনয়নগর, বাগডোগরা, শিমুলবাড়ি, পানিঘাটা, লংভিউ, গাঙ্গুরাম, ত্রিহানা, হাঁসখাওয়া, মিনি ও রাঙাপানি-সহ একাধিক চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় চিতাবাঘের উপদ্রব বেড়েছে। মাঝেমধ্যেই গুরুতর জখম হচ্ছেন চা-শ্রমিকেরা।
নকশালবাড়ি চা বাগানে গত তিন মাস ধরে আতঙ্কের মধ্যেই চা পাতা তোলার কাজ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি শ্বাপদের দাপট আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারবার বন দপ্তরের কাছে খাঁচা বসানোর দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় চা-শ্রমিক হীরালাল লাকড়া বলেন, “চিতাবাঘের হামলায় একাধিক শ্রমিক ও গবাদিপশু জখম হয়েছেন। তাই খাঁচাবন্দি করার দাবি জানানো হয়েছিল। ১৩ ডিসেম্বর বন দপ্তরে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।” তাঁর দাবি, এরপরই বৃহস্পতিবার বন দপ্তরের পানিঘাটা রেঞ্জ নকশালবাড়ি চা বাগানের জাবরা ডিভিশনে নধরকান্তি পাঁঠাকে টোপ হিসেবে রেখে খাঁচা বসায়।
শনিবার ভোরে পাঁঠার ডাক শুনে চিতাবাঘটি খাঁচার ভিতরে ঢুকতেই দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সকালে খাঁচাবন্দি চিতাবাঘটি দেখতে পেয়ে চা-শ্রমিকরাই প্রথম বন দপ্তরে খবর দেন। বন কর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধরা পড়া চিতাবাঘটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে উপযুক্ত জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। আপাতত দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নকশালবাড়ি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top