দিল্লি – স্কুলের গাড়ি না আসায় আর চুপ করে থাকতে পারেনি সে। বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের স্কুলে কীভাবে যাবে—এই প্রশ্নই প্রতিবাদের রূপ নেয়। স্কুলের পোশাক পরে, পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে মাঝরাস্তায় বসে পড়ে এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। নীরব, কিন্তু দৃঢ় সেই প্রতিবাদে তিন ঘণ্টা থমকে যায় যান চলাচল। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার চিচোলি এলাকার।
শনিবার স্কুলের গাড়ি তাকে নিতে না আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বছর দশেকের সুরভী যাদব। আগেও একাধিকবার এমন ঘটেছে বলে অভিযোগ। সহপাঠীদের সঙ্গে পড়াশোনা করার প্রবল ইচ্ছে থাকলেও বারবার স্কুলে যেতে না পারার যন্ত্রণা জমছিল তার মনে। শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত নেয়—পথই হবে প্রতিবাদের ভাষা। কোনও স্লোগান নয়, কোনও হিংসা নয়—চোয়াল শক্ত করে সে বসে পড়ে মাঝরাস্তায়।
পরনে স্কুলের ইউনিফর্ম, কোলের কাছে শক্ত করে ধরা স্কুলব্যাগ। ছোট্ট মেয়েটিকে এভাবে একা বসে থাকতে দেখে থমকে যান পথচারী ও চালকেরা। কৌতূহলে ভিড় জমতে থাকে। অনেকেই তাকে রাস্তা ছেড়ে উঠে যেতে বলেন। কিন্তু টলানো যায়নি সুরভীকে। একটানা তিন ঘণ্টা সে রাস্তাতেই বসে থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে যান চলাচল।
জানা গিয়েছে, শিক্ষার অধিকার আইনের আওতায় সুরভীর স্কুলে ভর্তি। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব বেশি হওয়ায় স্কুলের গাড়িতেই যাতায়াত করত সে। তবে আর্থিক সমস্যার কারণে গত দু’বছর ধরে পরিবার স্কুলগাড়ির ভাড়া দিতে পারেনি। অভিযোগ, সেই কারণেই তাকে আর স্কুলের গাড়িতে তোলা হচ্ছিল না। একা এত দূর যাওয়াও তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরই প্রতিবাদে এদিন সে পথে নামে।
ঘটনার খবর পেয়ে চিচোলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সুরভীর সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ ও শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর অবশেষে ব্যাগ কাঁধে তুলে রাস্তা ছাড়ে সুরভী।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, অভিভাবকরাই নাকি শিশুটিকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। গোটা বিষয়টি এখন শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















