রাজ্য – শীতের মরশুমে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে সবজি বাজারে। সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে সবজি কিনে নাজেহাল ছিলেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি। তবে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় ধীরে ধীরে বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরছে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।
বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি নেমে এসেছে প্রায় ২৭ টাকায়। খুচরো বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩১ থেকে ৩৪ টাকার মধ্যে, যা আগের তুলনায় কিছুটা কম। ছোট পেঁয়াজের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি হলেও সেটি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। টম্যাটোর দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩৮ টাকা, খুচরো বাজারে যা ৪৪ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। রান্নাঘরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সবজির দামে আপাতত বড় কোনও অস্থিরতা নেই।
আলুর বাজারেও মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। নতুন আলুর জোগান বাড়ায় পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি দাম নেমেছে প্রায় ২৯ টাকায়। খুচরো বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকার মধ্যে। পাশাপাশি ফুলকপি, বাঁধাকপি ও গাজরের মতো শীতকালীন সবজির দামও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফুলকপি কেজিপ্রতি প্রায় ৩১ টাকা, বাঁধাকপি ২৮ টাকা এবং গাজর ৪২ টাকার কাছাকাছি দামে পাওয়া যাচ্ছে।
সবুজ সবজির ক্ষেত্রেও বাজারে কিছুটা স্বস্তির ছবি ধরা পড়েছে। লাউ, কুমড়ো, ঝিঙে ও বরবটির মতো সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। বোতল লাউ কেজিপ্রতি প্রায় ২৯ টাকা এবং ছাই কুমড়ো মিলছে ১৮ টাকায়। কাঁচা কলার দামও বেশ কম, কেজিপ্রতি মাত্র ১০ টাকা, যা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য বড় স্বস্তি বলেই মনে করছেন ক্রেতারা।
তবে সব সবজির দামে যে রেহাই মিলেছে, তা নয়। কাঁচালঙ্কা, ক্যাপসিকাম, করলা ও মাখনশিমের মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। কাঁচালঙ্কা কেজিপ্রতি প্রায় ৪১ টাকা, ক্যাপসিকাম ৫২ টাকা এবং মাখনশিম প্রায় ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সবজিগুলির উৎপাদন তুলনামূলক কম হওয়ায় দামে পুরোপুরি পতন ঘটেনি।
আমলা ও বেবি কর্নের মতো বিশেষ কিছু সবজির দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আমলা কেজিপ্রতি প্রায় ৭৫ টাকা এবং বেবি কর্ন ৪৫ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে। এই সবজি মূলত নির্দিষ্ট কিছু ক্রেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।
বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, শীতের শুরুতে পরিবহণ সমস্যা ও জোগানের ঘাটতির কারণে সবজির দাম বেড়েছিল। তবে এখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় দাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দিনে আরও কিছু সবজির দামে রেহাই মিলতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।
ক্রেতাদের বক্তব্য, সবজির দাম এখনও পুরোপুরি কমেনি ঠিকই, তবে এই সামান্য স্বস্তিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় প্রাপ্তি। শীতের বাজারে যদি এই ধারা বজায় থাকে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহে রান্নাঘরের খরচ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।




















