খেলা – আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা যাবতীয় জল্পনায় কার্যত ইতি টানলেন রোহিত শর্মা। এক সময় অধিনায়কত্ব হারানো, ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন—সব কিছুরই জবাব দিলেন ব্যাট হাতে এবং স্পষ্ট বক্তব্যে। ২০২৫ সালে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার হওয়ার পর নিজের কেরিয়ার নিয়েও পরিষ্কার বার্তা দিলেন ‘হিটম্যান’। জানিয়ে দিলেন, “এখনও মাটিতে নামার সময় আসেনি, প্লেন আকাশেই উড়ছে।”
২০২৫ সালটা রোহিত শর্মার কাছে কার্যত কামব্যাকের বছর। এই বছরে ভারতের হয়ে ১৪টি একদিনের ম্যাচে তিনি করেছেন ৬৫০ রান। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দু’টি শতরান ও চারটি অর্ধশতরান। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদেই আইসিসি ওডিআই ব্যাটার র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটারের শিরোপা দখল করেছেন মুম্বইয়ের এই তারকা।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সফরের তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে রোহিতের ব্যাটিং নজর কেড়েছিল গোটা ক্রিকেটবিশ্বের। ওই সিরিজে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং স্বাভাবিকভাবেই জেতেন ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কার। সেই সিরিজের পরই তাঁর কেরিয়ারে প্রথমবার ওডিআই ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষে ওঠা।
তবে এই সাফল্যের আগে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছিল একের পর এক প্রশ্ন। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানোর পরও তাঁকে একদিনের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছিল। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, রোহিতের সময় বুঝি ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে ব্যাট হাতে জবাব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ফর্ম আর ক্লাস এখনও অটুট।
অস্ট্রেলিয়ার পর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজেও নিজের ছন্দ ধরে রাখেন রোহিত। ওই সিরিজেও তাঁর ব্যাট থেকে আসে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরান। ধারাবাহিকতার এই গ্রাফই তাঁকে এনে দেয় বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটারের মুকুট।
এই সপ্তাহে মুম্বইয়ের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফি খেলতে নামার আগে রবিবার গুরুগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন রোহিত শর্মা। সেখানেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। নিজের জীবনকে বিমানের সঙ্গে তুলনা করে রোহিত বলেন, শুরুটা তাঁর কাছেও সহজ ছিল না। কিন্তু একবার গতি পেলে সেই ‘প্লেন’ যে উচ্চতায় উঠেছে, এখনও নামেনি।
রোহিতের কথায়, একবার যখন ৩৫–৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছনো যায়, তখন যাত্রা স্বস্তির হয়—খাওয়া, ঘুম সব কিছুই স্বাভাবিক লাগে। জীবনের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তেমনই। গতি পাওয়ার পর সেখানে টিকে থাকাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, অবতরণ যে একদিন হবেই, তা তিনি জানেন। তবে কখন নামবেন, সেটা একান্তই তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। আপাতত বার্তা একটাই—ফর্ম থাকলে, খিদে থাকলে এবং শরীর সায় দিলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার কোনও তাড়াহুড়ো নেই।
৩৮ বছর বয়সেও রোহিত শর্মা যে এখনও ভারতের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা, ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান ও আইসিসি র্যাঙ্কিং সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।




















