রাজ্য -;২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি নতুন দল। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আজ, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চলেছেন। তার আগেই দলের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের নাম ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’।
মুর্শিদাবাদের মির্জাপুর থেকেই নতুন দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবীর। সোমবার দুপুর ১টায় মির্জাপুর মোড়ে একটি জনসভা ডেকে দলের নাম, কর্মসূচি এবং প্রাথমিক রূপরেখা প্রকাশ করার কথা। ওই সভা থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নিজের ভবিষ্যৎ রণকৌশলের ইঙ্গিত দেবেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। সেই কারণেই ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে চাইছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। সূত্রের দাবি, নতুন দল ঘোষণার মঞ্চ থেকেই প্রথম দফায় পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও ঘোষণা করতে পারেন হুমায়ুন কবীর।
বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন দলের আবির্ভাব নতুন নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নওসাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। সেই দল থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন নওসাদ নিজেই। সেই উদাহরণ সামনে রেখেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ২০২৬ সালের আগে হুমায়ুন কবীরের দলও ভোটের অঙ্কে নতুন হিসেব কষতে পারে।
নতুন দলের প্রতীক নিয়েও ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন হুমায়ুন। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার সময় তাঁর প্রতীক ছিল টেবিল। সূত্রের দাবি, নতুন দলের জন্যও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রথম পছন্দ হিসেবে টেবিল প্রতীকই চাইবেন তিনি। যদি সেই প্রতীক না মেলে, তবে বিকল্প হিসেবে জোড়া গোলাপ প্রতীকের আবেদন জানানো হতে পারে, কারণ গোলাপ তাঁর পছন্দের প্রতীক।
নতুন দল নিয়ে হুমায়ুন কবীরের দাবি যথেষ্ট বড়। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সকলের জন্য জনতা উন্নয়ন পার্টির দরজা খোলা থাকবে। দল ঘোষণার সভায় লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মূল মঞ্চে থাকবেন প্রায় ৯০ জন নেতা-কর্মী, সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন একাধিক ভিআইপি।
হুমায়ুন কবীরের আরও দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করবে তাঁর দল। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনতা উন্নয়ন পার্টিই নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে বলেও তাঁর বক্তব্য। যদিও এই দাবিগুলি বাস্তবে কতটা সফল হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা মত রয়েছে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই নতুন দলকে আপাতত বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। শাসকদলের একাংশের মতে, হুমায়ুন কবীরের দল রাজ্যের রাজনীতিতে বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়েই নির্ধারিত হবে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক স্বপ্নের ভবিষ্যৎ। নজর এখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকেই।




















