দিল্লি – ছত্তীসগঢ়ের রায়গড় জেলার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃত পড়ুয়ার নাম প্রিন্সি কুমারী। তিনি ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বাসিন্দা এবং রায়গড় জেলার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পুঞ্জিপাথরা এলাকার হস্টেলেই থাকতেন তিনি।
শনিবার রাতে হস্টেলের নিজের ঘরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন প্রিন্সি। দীর্ঘক্ষণ ঘর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে হস্টেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে পুলিশ এবং ঝুলন্ত অবস্থায় প্রিন্সিকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের পর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। রবিবার ময়নাতদন্তের পরে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথম বর্ষের একাধিক ব্যাকলগ পরীক্ষাও দিতে হচ্ছিল প্রিন্সিকে। এই কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যার বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, শনিবার সন্ধে সাড়ে আটটা নাগাদ একাধিকবার ফোনে প্রিন্সির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁরা হস্টেল ওয়ার্ডেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওয়ার্ডেন প্রিন্সির ঘরে গিয়ে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বহুবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই দেখা যায়, ঘরের ভিতরে ঝুলছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে প্রিন্সি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পড়াশোনার ফল এবং পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার যন্ত্রণা তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি পরিবারের উপর পড়াশোনার খরচের আর্থিক চাপ নিয়ে গভীর অপরাধবোধের কথাও লেখা রয়েছে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “Sorry Mummy Papa, I couldn’t meet your expectations।”
জানা গিয়েছে, প্রথম সেমিস্টারে পাঁচটি বিষয়ে ব্যাকলগ ছিল প্রিন্সির। সেই পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি সেমেস্টার ফি বাবদ প্রায় এক লক্ষ টাকা কিস্তিতে দেওয়ার বিষয়েও পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি। এই সব মিলিয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। হস্টেলের আবাসিক পড়ুয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।




















