জলপাইগুড়ি – ভূতের হানা নাকি অন্য কোনও রহস্য? শীতের রাতে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনার জেরে চরম আতঙ্কে জলপাইগুড়ির নিউ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা গৌতম দে ও তাঁর পরিবার। কখনও খাট নড়ে যাচ্ছে, কখনও আবার হঠাৎ করে পড়ে যাচ্ছে আলমারি। বাড়ির এক ঘর থেকে আরেক ঘরে ভেসে আসছে চাপা কান্নার আওয়াজ। কোথা থেকে আসছে এই শব্দ, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
গৌতম দে জানান, ছেলে দেবব্রতকে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। হঠাৎ গভীর রাতে কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপরই শুরু হয় একের পর এক ভুতুড়ে ঘটনা। শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরাও। আবাস যোজনায় পাওয়া বাড়ির এক ঘরে থাকেন গৌতমবাবু, অন্য ঘরে ছেলে দেবব্রত। সেই সময় বাড়িতে স্ত্রী ছিলেন না। পাশের বাড়িতে থাকেন গৌতমবাবুর মা সন্ধ্যা দে।
দেবব্রত দে জানান, রবিবার রাত প্রায় বারোটা নাগাদ আচমকাই কোনও কারণ ছাড়াই মেঝেতে পড়ে যায় ড্রেসিং টেবিল, আলমারি সহ ঘরের একাধিক আসবাব। এখানেই শেষ নয়, গ্যাস ওভেন নিয়ে শুরু হয় টানাহেঁচড়া, যেন অদৃশ্য কোনও শক্তি সেটিকে ছুঁড়ে ফেলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পোড়া গন্ধ। দেখতে পান কম্বল ও বিছানার চাদরে আগুন জ্বলছে। অথচ ঘরের ভিতরে তৃতীয় কোনও ব্যক্তিকে দেখতে পাননি তাঁরা।
এই অবস্থায় আতঙ্কে বাবা-ছেলে দু’জনেই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ভূতের ভয়ে আর ঘরে ঢোকার সাহস পাননি তাঁরা। শীতের রাত খোলা আকাশের নিচেই কাটাতে বাধ্য হয় গোটা পরিবার। এই ঘটনা জানাজানি হতেই আশপাশের বাসিন্দারাও ছুটে আসেন। দেবব্রতর মুখে পুরো ঘটনা শুনে তাঁরাও হতবাক হয়ে যান।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোমবার সকালেও একাধিকবার কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছে। এতে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উত্তম বসু। তিনি জানান, ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে বাড়ির লোকজন দাবি করছেন, তাঁরা নিজের চোখে এই ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা দেখেছেন।
ঘটনায় আতঙ্কিত হলেও বিষয়টি যুক্তিবোধের বাইরে হওয়ায় দে পরিবার সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসে ঘটনার তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন। সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক ড. রাজা রাউত বলেন, “ভূত বলে কিছু হয় না। এ সবই মনের ভুল বা কোনও অজানা প্রাকৃতিক কারণ। তবে ঘটনার পিছনে কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।” রহস্যের পর্দা কবে উঠবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা।




















