হুগলি – হুগলির নিম্ন আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় আচমকাই খানিকটা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কাঠগড়ার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিপিএমের একাধিক নেতা। একে একে নাম ডাকা হচ্ছিল, প্রত্যেকেই হাত তুলে জানাচ্ছিলেন, “হাজির।” তালিকার শেষের দিকে ডাকা হয় একটি নাম—মিঠুন চক্রবর্তী।
৪৫ বছর বয়সি ওই সিপিএম নেতা হাত তুলে উপস্থিতি জানাতেই বিচারক মুহূর্তের জন্য থেমে যান। মুখে হালকা হাসি আর বিস্ময় মেশানো রসিকতায় তিনি মন্তব্য করেন, “আরে! মিঠুন চক্রবর্তী? আপনি তো বিজেপিতে ছিলেন! সিপিএম হলেন কবে?” বিচারকের এই মন্তব্যে আদালতকক্ষে ছড়িয়ে পড়ে ফিসফাস।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অভিযুক্ত অবশ্য শান্ত গলায় স্পষ্ট করে জানান, “নামটা মিলেছে ঠিকই, কিন্তু আমি বরাবরই সিপিএম করি।” নামের মিল থেকেই যে এই বিভ্রান্তি, তা তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, চলতি অগস্ট মাসে হুগলির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল একাধিক বিরোধী দল। সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল সিপিএমও। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সম্প্রতি কয়েকজন বাম নেতা আগাম জামিনের আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তী।
শেষ পর্যন্ত আদালত অভিযুক্তদের আগাম জামিন মঞ্জুর করে। তবে নামের এই সমাপতনে মামলার শুনানিতে যে খানিক নাটকীয়তা যোগ হয়েছিল, তা আদালতকক্ষের উপস্থিত সকলের নজর কেড়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে ওই সিপিএম নেতা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু বলা ঠিক নয়।” রাজনীতিতে সমনামের বিভ্রান্তি নতুন নয়, কিন্তু আদালতকক্ষে বিচারকের মুখে এমন রসিক মন্তব্য—এই অভিজ্ঞতা যে জীবনে একদিন আসবে, তা মিঠুন চক্রবর্তী নিজেও ভাবেননি বলেই মন্তব্য ঘনিষ্ঠ মহলের।




















