বিনোদন – ট্রফি হাতে তুলেছেন ঈশান কিষাণ। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, ড্রেসিংরুমে আনন্দের জোয়ার। ঝাড়খণ্ডের ঐতিহাসিক সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জয় ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এই সাফল্যের গল্প শুধু মাঠের লড়াইয়ের নয়। এর নেপথ্যে রয়েছেন এমন একজন, যাঁর নাম স্কোরকার্ডে নেই, যাঁকে মাঠে দেখা যায়নি—তবু যাঁর ছাপ রয়েছে প্রতিটি সিদ্ধান্তে। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি।
২০২৪ সালে ঝাড়খণ্ড রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের পর থেকেই রাজ্যের ক্রিকেটকে নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু হয়। প্রাক্তন স্পিনার শাহবাজ নাদিম যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব নেন এবং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন রতন কুমার। তবে এই নিয়োগ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নেপথ্যে নিয়মিত পরামর্শদাতা হিসেবে ছিলেন ধোনি। নাদিম নিজেই জানিয়েছেন, কোচিং স্টাফ নির্বাচন থেকে শুরু করে দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা—সব ক্ষেত্রেই ধোনির মতামত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
টি-২০ ফরম্যাটে ধোনির ট্যাকটিক্যাল নজর ঝাড়খণ্ডের সাফল্যে বড় ভূমিকা নিয়েছে। পুরো সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জুড়ে তিনি দলের পারফরম্যান্স গভীরভাবে অনুসরণ করেছেন। কোন ব্যাটার কোন পরিস্থিতিতে কার্যকর, কোন বোলার কোন ওভারে সবচেয়ে শক্তিশালী—সবকিছুই ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেছেন তিনি। দলের প্রতিটি ক্রিকেটারের শক্তি ও দুর্বলতা তাঁর কাছে ছিল স্পষ্ট, যা ম্যাচভিত্তিক কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হয়েছে।
মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঈশান কিষাণ। ১০ ইনিংসে ৫১৭ রান এবং প্রায় ১৯৭ স্ট্রাইক রেটে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়ে ওঠেন তিনি। ফিনিশারের ভূমিকায় কার্যকর ছিলেন কুমার কুশাগ্র। অলরাউন্ডার অনুকুল রায় ৩০৩ রান ও ১৯ উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট হন। ফাইনালে হরিয়ানার বিরুদ্ধে ২৬২ রান তুলে কার্যত একতরফা ম্যাচে পরিণত করে ঝাড়খণ্ড। রাজ্যজুড়ে শুরু হয় উদযাপন।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ধোনি ক্রিকেট থেকে দূরে যাননি। মাঠের বাইরে থেকে দল গঠন, সিস্টেম তৈরি এবং নেতৃত্বের আদর্শ স্থাপন—এই ভূমিকা পালন করেই তিনি প্রমাণ করেছেন, নেতৃত্ব মানে শুধু ব্যাট বা গ্লাভস হাতে মাঠে নামা নয়। ঝাড়খণ্ডের এই ঐতিহাসিক ঘরোয়া ট্রফি জয়ের পেছনে অনেক মুখ থাকলেও, আড়ালের সবচেয়ে বড় নামটা আজও সেই পুরনোই—মহেন্দ্র সিং ধোনি।




















