দেশ – বছর শেষ হতে আর কয়েকটা দিন বাকি। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আগে যদি আচমকা মনে পড়ে যায় যে, যে পুরনো সঞ্চয় ভাণ্ডারটি দীর্ঘদিন ভোলা পড়ে আছে, তার টাকা আর ব্যাঙ্কে নেই, বরং চলে গেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) কাছে, তবে সেটা ফেরত পাওয়া সম্ভব। সুদ প্রযোজ্য থাকলে সেইটাও পাওয়া যাবে।
ব্যাঙ্কিং সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাধারণত দশ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে যদি কোনও অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে সেখানে থাকা অর্থ আরবিআই-এর “ডিপোজিটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস” ভাণ্ডারে চলে যায়। এটি তখন দাবিহীন সঞ্চয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি গ্রাহক নিজে সেই অ্যাকাউন্ট বা সঞ্চয় ভুলে গেলেও পরবর্তী সময়ে সঠিক নথি দিয়ে তা দাবি করা সম্ভব।
আরবিআই ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বার্তা দিয়ে গ্রাহকদের এই সুযোগ সম্পর্কে জানিয়েছে। সাধারণত বছরভর এই দাবি করা যায়, তবে চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাঙ্কগুলিকে বিশেষ কর্মসূচি ও শিবিরের মতো আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ ব্যাঙ্কের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি থাকলে এই টাকা ফেরত পাওয়া একেবারেই সহজ।
গ্রাহককে যে কোনও ব্যাঙ্ক শাখায় যেতে হবে, এটি তাঁর মূল শাখা না হলেও হবে। একটি ফর্ম বা আবেদনপত্রের সঙ্গে কেওয়াইসি নথি (যেমন আধার, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স) জমা দিতে হবে। যাচাই শেষে সব ঠিক থাকলে গ্রাহক সুদসহ তাঁর টাকা ফেরত পাবেন। প্রয়োজনে আইনগত উত্তরাধিকারীরাও এই অর্থ দাবি করতে পারেন, তবে তাঁদেরকেও প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে হবে।
অল ইন্ডিয়া ন্যাশনালাইজড ব্যাঙ্ক অফিসারস ফেডারেশনের সভাপতি সঞ্জয় দাস জানান, গ্রাহকদের স্বার্থে এই পরিষেবা চালু আছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি আরবিআই নির্দেশের ভিত্তিতে গত তিন মাস ধরে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রাহক বা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানানো হচ্ছে এবং পরিষেবার কার্যকারিতা উপরমহল থেকে নজরদারি করা হচ্ছে।
আরবিআই-এর ওয়েবসাইট https://udgam.rbi.org.in-এ লগ ইন করে গ্রাহক অনলাইনে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে পারেন। তবে এতে নাম নথিভুক্ত না থাকলে আগে তা সম্পন্ন করতে হবে।
সতর্কতা হিসেবে জানা দরকার, কোনও অচেনা নম্বর বা ব্যক্তি ফোন বা মেসেজে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের টাকা পাওয়ার প্রলোভন দিলে তাতে পা দেবেন না। কোনো ওটিপি বা তথ্য চাইলে তা কাউকে দেবেন না। সব কার্যক্রম কেবল ব্যাঙ্ক শাখার মাধ্যমে হবে।
নতুন বছর আনন্দের আগে প্রতারকের ফাঁদ এড়ানো অপরিহার্য। না হলে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হারিয়ে যাওয়া শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বছরের আনন্দও নষ্ট হবে।




















