দেবের স্ক্রিনিং কমিটি বিরোধ ও শো বিতর্কে টলিউডে উত্তেজনা

দেবের স্ক্রিনিং কমিটি বিরোধ ও শো বিতর্কে টলিউডে উত্তেজনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিনোদন – কখনও ক্ষমতার আস্ফালনে বেশি শো পাওয়া, কখনও আবার ফ্যান ক্লাবের নামে বাকি অভিনেতা-প্রযোজকদের কদর্য আক্রমণ—সব ক্ষেত্রেই শিরোনামে রয়েছেন অভিনেতা-প্রযোজক দেব। বাংলা ছবির হল পাওয়া, টলিউড সিনেমার মেরিট অনুযায়ী শো প্রদানের রাস্তা সুগম করা এবং হিন্দি ও দক্ষিণী সিনেমার বাজারে বাংলা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিকে সুরক্ষিত রাখতে গঠিত স্ক্রিনিং কমিটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ‘প্রজাপতি’ অভিনেতা। অর্থাৎ তিনি এই কমিটি চান না। তবে বাকি ১২টি প্রযোজনা সংস্থা কমিটির পক্ষে ভোট করায় ফল দাঁড়ালো ১২-১, অর্থাৎ দেব কোণঠাসা অবস্থায় আছেন।
২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইমপার অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্ক্রিনিং কমিটি থাকবে কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, এসভিএফ-এর শ্রীকান্ত মোহতা, নিশপাল সিং, রানা সরকার, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসসহ অন্যান্য প্রযোজক ও পরিচালক। বৈঠকের সময় পিয়া ফোনে দেবকে ভোটের দিকনির্দেশ দেন, কিন্তু দেব নোটায় ভোট দিয়ে কমিটির বিপক্ষে সওয়াল জানান। সাংবাদিক বৈঠকে পিয়া বলেন, দেব এই বিষয়ে আগেই বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন, তাই মিটিং চলাকালীন স্পষ্ট করে তা বলতে পারতেন।
স্ক্রিনিং কমিটির উদ্দেশ্য বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং প্রতিটি ছবিকে বক্স অফিসে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া। বিশেষ করে ছ’টি বড় উৎসবের মধ্যে দু’টি উৎসবেই যে কোনও প্রযোজনা সংস্থা তাদের দুইটি ছবিই রিলিজ করতে পারবে। তবে বিতর্কিত অভিনেতা-প্রযোজক দেব সম্প্রতি কিছু ইন্টারভিউতে এই ক্যালেন্ডার তৈরি বিরোধিতা করেছেন। ‘রঘু ডাকাত’ মুক্তির সময়ও দেখা গেছে, এই ছবিই সর্বাধিক শো পেয়েছে। অন্যান্য প্রযোজকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় কারণ সিনেমার কৃতিত্বে নয়, অভিনেতা নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে শো টাইম দখল করেন। ক্রিসমাসেও তাঁর প্রযোজিত ও অভিনীত ‘প্রজাপতি ২’ বাকি সিনেমার তুলনায় বেশি শো পেয়েছে। পাশাপাশি ফ্যান ক্লাবের তরফে বাকি সিনেমার অভিনেতা-প্রযোজকদের বিরুদ্ধে অকথ্য আক্রমণ করা হচ্ছে।
এদিন স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, ফ্যান ক্লাব ভালো কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় কদর্য আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করে ফেডারেশন জানিয়েছে, ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হবে। এছাড়াও রেটিং ম্যানিপুলেশন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং এর নেপথ্যকারদের চিহ্নিত করা হবে। এককথায়, দেবের ক্ষমতার আস্ফালন ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো চোখে দেখা হচ্ছে না। ফলে বাংলা ছবি মুক্তি নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা কাটবে কি না তা বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top