কলকাতা – বছরের শেষ রবিবার দুপুরে কলকাতার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট এলাকার একটি গেস্ট হাউসে ভাড়া নেন এক প্রেমিক যুগল। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে তরুণীর গোঙানির শব্দ শুনে কর্মীরা ছুটে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রেমিকাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুবককে। কী কারণে এই নৃশংস হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত তরুণীর বয়স ৩৮ বছর। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে গেস্ট হাউসে ওঠেন বছর চল্লিশের প্রদীপ কুমার সেলভারাজ। অভিযুক্ত যুবক চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, গেস্ট হাউসের ঘরের ভিতরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার প্রেমিকাকে আঘাত করে প্রদীপ। তরুণীর কাঁধ, হাত-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পরই গেস্ট হাউস থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। পরে ঘর থেকে আওয়াজ পেয়ে কর্মীরা দরজা খুলে রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীকে পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় মুচিপাড়া থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীর শরীরে মোট সাতটি সেলাই পড়েছে। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আহত তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযুক্ত প্রদীপ কুমার সেলভারাজকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রদীপের কাছে তরুণীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল। সেই নথি দেওয়া-নেওয়া নিয়েই দু’জনের মধ্যে তীব্র অশান্তি শুরু হয় এবং সেই সময়ই খুনের চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশের অনুমান।
বর্তমানে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, জেরায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে। তরুণী সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর বিস্তারিত বয়ানও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















