রাজ্য – বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ প্রাণ হারানো এক পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারকে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল রাজ্য সরকার। ওড়িশার সম্বলপুরে গণপ্রহারে নিহত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের সুতি-১ ব্লকের চকবাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা কয়েক দিন আগেই রাজমিস্ত্রির কাজ করতে ওড়িশার সম্বলপুরে গিয়েছিলেন। বুধবার রাতে সেখানে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলছিলেন জুয়েল, আরিক ও পলাশ। সেই সময় পাঁচ জনের একটি দল এসে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ শুরু করে।
পরিবারের দাবি, শ্রমিকেরা নিজেদের বৈধ পরিচয়পত্র দেখালেও তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ধীরে ধীরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। প্রাণের ভয়ে আরিক ও পলাশ কোনওমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জুয়েলকে ধরে ফেলে উন্মত্ত জনতা। অভিযোগ, তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জুয়েলের নিথর দেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শুক্রবার সকালে জুয়েলের দেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছয়। সঙ্গে ফিরেছেন আতঙ্কিত সহকর্মী আরিক ও পলাশ। গোটা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, বিজেপিশাসিত ওড়িশায় ভাষাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বাঙালি পরিযায়ীদের নিশানা করা হচ্ছে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ওড়িশা সরকার ও বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর যে নির্যাতন চলছে, তার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কোনও আর্থিক সাহায্যেই একটি মানুষের প্রাণের মূল্য চুকানো সম্ভব নয়। তবে অকালমৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো রাজ্যের দায়িত্ব। সেই নীতির ভিত্তিতেই জুয়েল রানার পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।




















