বিনোদন – বছর শেষের মুখে টলিপাড়ায় ফের নেমে এল শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক। সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাজারহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শ্রাবণী। ছোটপর্দা, বড়পর্দা ও নাটকের মঞ্চ—তিন ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে গিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
কয়েক মাস আগেই শ্রাবণীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। শুরুতে তিনি আশাবাদী ছিলেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে, যার জেরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও শেষরক্ষা হয়নি।
ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছিলেন শ্রাবণীর ছেলে অচ্যুত আদর্শ। তিনি জানিয়েছিলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন, যা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। সেই আবেদন ঘিরে টলিপাড়ায় ও দর্শকমহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।
‘লালকুঠি’, ‘রাঙা বউ’, ‘গোধূলী আলাপ’, ‘সোহাগ চাঁদ’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে শ্রাবণীর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিল। কখনও স্নেহময়ী মা, কখনও কাকিমা বা পার্শ্বচরিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল সাবলীল ও প্রাণবন্ত। ‘কে আপন কে পর’-এ জবার মায়ের চরিত্রে এবং ‘আলো ছায়া’-য় নায়কের মায়ের ভূমিকায় তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত হন। সম্প্রতি ‘মালাবদল’ ধারাবাহিকে দিতির সৎ মায়ের চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।
ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দাতেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তরুণ মজুমদারের পরিচালনায় ‘আলো’ এবং ‘চাঁদের বাড়ি’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শ্রাবণী। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে টলিপাড়া জুড়ে শোকের আবহ। সহকর্মী, অনুরাগী ও দর্শকদের কাছে তিনি থেকে যাবেন তাঁর অভিনয়ের স্মৃতিতেই।




















