দিল্লি – সাজা পূর্ণ হওয়ার পরেও পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলে এখনও ১৬৭ জন ভারতীয় নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি বহু ভারতীয় মৎস্যজীবীও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়ে এই বন্দিদের দ্রুত মুক্তি এবং ভারতে ফেরানোর দাবি জানিয়েছে ভারত সরকার।
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দুই দেশ নিজেদের জেলে বন্দি অসামরিক নাগরিক ও মৎস্যজীবীদের তালিকা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করে। ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় এ বছরও দুই দেশের মধ্যে বন্দিদের তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।
চলতি বছরের বিনিময় করা তালিকা অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন জেলে বর্তমানে ৩৯১ জন সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিক এবং ৩৩ জন পাকিস্তানি মৎস্যজীবী বন্দি রয়েছেন। অন্য দিকে, পাকিস্তানের জেলে রয়েছেন ৫৮ জন ভারতীয় সাধারণ নাগরিক এবং ১৯৯ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। এই তালিকা থেকেই সামনে এসেছে, সাজা শেষ হয়ে গেলেও অন্তত ১৬৭ জন ভারতীয় এখনও মুক্তি পাননি।
নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, যাঁরা তাঁদের সাজার মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের জেলে থাকা ৩৫ জন ভারতীয় বন্দিকে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাসের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে ২৬৬১ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং ৭১ জন অসামরিক বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও বহু ভারতীয় নাগরিক পাক জেলে বন্দি থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
নয়াদিল্লি বিশেষভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, সে দেশের জেলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বলে সন্দেহভাজন বন্দিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বন্দি প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে আগামী দিনে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে।




















