মনরেগা বদলে ‘জি রাম জি’ আইন, সংসদে পাশের পর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি কংগ্রেসের

মনরেগা বদলে ‘জি রাম জি’ আইন, সংসদে পাশের পর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি কংগ্রেসের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দিল্লি – মনরেগা অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি আইন বদলে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা VB-G RAM-G, সংক্ষেপে ‘জি রাম জি’ আইন এনেছে কেন্দ্র। এই বিল ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকল্প থেকে গান্ধীজির নাম সরাতেই মোদি সরকার নতুন আইনের পথে হেঁটেছে। তাদের দাবি, এই আইন অসাংবিধানিক এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা পাশ করানো হয়েছে।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, এই বিলের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে হাত শিবির। একই সঙ্গে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ৪৭ দিনের ‘মনরেগা বাঁচাও আন্দোলন’। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চাপ তৈরি করা হবে।
প্রস্তাবিত আইনে কাজের দিনের সংখ্যা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার কথা বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রকল্পে কেন্দ্রের আর্থিক বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে রাজ্যগুলির উপর অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ আর্থিক বোঝা চাপবে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ হলেও নতুন আইনে কোন রাজ্যে কত টাকা যাবে, তা কেন্দ্রই ঠিক করবে। বিরোধীদের মতে, এতে সাধারণ শ্রমিকদের জন্য ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সংসদে এই বিল নিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত বিতর্ক চলে। ৯৮ জন সাংসদ তাঁদের বক্তব্য রাখেন। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি ও সংসদের বাইরে বিক্ষোভ সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ‘জি রাম জি’ বিল পাশ করিয়ে নেয় কেন্দ্র। সরকারের দাবি, গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য নয়, বরং শ্রমিকরা যাতে আরও বেশি কাজ পান, সেটাই লক্ষ্য। তবে কংগ্রেসের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াটিই সংবিধান বিরোধী।
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজ্যগুলির উপর যেভাবে ৪০ শতাংশ খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে, তা সংবিধানের ২৫৮ ধারার পরিপন্থী। এই কারণেই আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিতে চলেছে তারা। পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দল।
গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে পথে নামছে কংগ্রেস। কৃষক আন্দোলনের ধাঁচে আগামী ৫ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় স্তর পর্যন্ত টানা ৪৭ দিন আন্দোলন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জানুয়ারি অনশন কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। কংগ্রেসের লক্ষ্য, কৃষক আন্দোলনের চাপে যেমন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল বিজেপি, তেমন চাপ এবার ‘জি রাম জি’ আইন প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও তৈরি করা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top